জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৩ এ গাংনী উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক (মাধ্যমিক) নির্বাচিত হওয়ার পর এবার জেলা পর্যায়েও তিনি একই ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দিলারা আফরোজ। আজ সোমবার (২২মে) আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
জেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি বছর মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। জেলার তিন উপজেলার তিনজন নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষকদের মধ্যে থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, চারিত্রিক দৃঢ়তা, আইসিটি জ্ঞান, সহযোগিতামুলক মনোভাব, পাঠ্যপুস্তক প্রনয়ন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ মোট ১৩ টি বিষয় বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে নির্ধারিত বিচারক প্যানেলের মাধ্যমে উপরোক্ত বিষয় বিবেচনা করে বিচারকদের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ নির্বাচন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারিকের বড় মেয়ে দিলারা আফরোজ মাধ্যমিকের গন্ডী পার হওয়ার আগেই সংসার জীবনে প্রবেশ করেন। বাবা মায়ের বড় সন্তান তিনি। অদম্য পরিশ্রমী এই শিক্ষক বিয়ের পর এসএসসি, এইচএসসি, বিএ, এমএ ও বিএড সম্পন্ন করেন। তাদের নিজেদের কোন ভাই না থাকায় বড় মেয়ে হিসেবে পরিবারের সকল দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। ছোট ৪ বোনের লেখাপড়ায় তিনি অনন্য ভুমিকা পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি স্বামীর সার্বিক সহযোগিতায় উভয় পরিবারের সকল দায়িত্ব পালন করেন। যে কোন অনুষ্ঠানে সফল উপস্থাপক। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মাস্টার ট্রেইনার তিনি। শিক্ষকতা, সংসার সামালেও তিনি লেখালেখি করেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে। “দহনের দিন” নামে একটি কবিতার বই রচনা করেন। তার কবিতায় প্রকৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ বারবার প্রতীকি হিসেবে কবিতায় তুলে ধরেছেন। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির অভ্যাস আছে। দিলারা আফরোজের জন্ম ১৯৭৫ সালের ২৩শে অক্টোবর। তার বাবা রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা যিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সরকারি গেজেট ভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বই পড়া ও বই সংগ্রহের প্রতি প্রবল ঝোক রয়েছে এই শিক্ষকের। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার প্রচুর বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে। একসময় তিনি পাড়ার বয়স্ক ও নিরক্ষর মহিলাদের বিনামূল্যে স্বাক্ষর জ্ঞান করার জন্য সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে তাদের পড়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। মহল্লার অনেক মহিলা এখন লিখতে ও পড়তে পারে। তাদের বিনামূল্যে বই, খাতা সরবরাহ করতেন। মহামারী করোনার পর এখন সে উদ্যোগ বন্ধ রয়েছে। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে গাংনীতে শ্রেষ্ঠ সংগ্রামী নারী পুরষ্কার লাভ করেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে তিনি কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার আল আমিন এর সহধর্মিণী। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জননী। মেধাবী দুই কন্যার মধ্যে বড় মেয়ে ডাঃ মাহজাবীন শাহীদি ঐশি ২০২২ সালের শেষে শহীদ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে গাংনীতে রুগী দেখছেন নিয়মিত। ছোট মেয়ে মুবাসসারাহ শাহিদী এশা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্কিটেকচার ইন্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত আছে। অত্যান্ত অতিথিপরায়ন ও পরিশ্রমী এ শিক্ষক সমাজ ও মানুষের কল্যাণে অনেক কাজ করে চলেছেন। দিলারা আফরোজ মাধ্যমিক পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় জেলার শিক্ষক সমাজ অভিনন্দন জানিয়েছেন।