• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মেহেরপুরে বেকারি ও বিরানি কারখানায় যৌথ অভিযানে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা মেহেরপুরে যাবজ্জীবন কারাদন্ড রায় শুনে জ্ঞান হারালেন ধর্ষণ মামলার আসামী গাংনীতে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মেহেরপুর জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটিকে মাসুদ অরুণের অভিনন্দন মেহেরপুরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাবে রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা

মেহেরপুরে পচন রোগে লোকসানের অশংকায় আলু চাষিরা

বিবর্তন প্রতিবেদক
Update : বুধবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৪
মেহেরপুরে পচন রোগে লোকসানের অশংকায় আলু চাষিরা
মেহেরপুরে পচন রোগে লোকসানের অশংকায় আলু চাষিরা

চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে আলু খেতে দেখা দিয়েছে পচন রোগ (লেট ব্লাইট)। প্রতিকার হিসেবে ছত্রাকনাশক ও বিষ প্রয়োগ করেও দমন করা যাচ্ছে না এ রোগ। এতে আলুর ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। ফলে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

কৃষি বিভাগ বলছে, বৈরী আবহাওয়ার কারনে এমনটি ঘটছে, তবে বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে এ রোগের সমস্যা থাকবে না। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় চলতি মৌসুমে ৯৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। গেল মৌসুমে ভাল দাম পাওয়ায় চাষিরা এবারও আলু চাষে আগ্রহী হয়েছেন। সে অনুযায়ি চাষিদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চাষিরা দেশি জাতের আলু আউশা, চল্লিশা, দোহাজারী লাল, পাটনাই, সাদা গুটি শীল বিলাতী ও সূর্যমূখী আবাদ করে থাকেন। উন্নত জাতের আলুরও চাষ হচ্ছে। তার মধ্যে ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, সিন্দুরী, ক্লিওপেট্রা বারি আলু-১ (হীরা), বারি আলু-৪ (আইলসা), বারি আলু-৭ (ডায়ামন্ট), বারি আলু-১৮ (বারাকা), বারি আলু-১৯ (বিন্টজে) এবং বারি আলু-২০ (জারলা) জাত উল্লেখ্য। তবে দেশি জাতগুলো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। দেখা গেছে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে দেশি জাতের আলুর ফলন কমে যায়। বীজের মাধ্যমেই এ রোগটি ছড়িয়ে থাকে।

জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষেতে দেখা দিয়েছে গাছ পুড়া রোগ (লেট ব্লাইট) এতে গাছ মরে শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক ব্যবহার করছেন। তবে কোন সুফল মিলছে না বলে জানিয়েছেন চাষিরা। আবার অনেকেই কি কারনে রোগ বালাই দেখা দিয়েছে তার কারন খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে আলুর ফলন কমে যাচ্ছে এটা নিশ্চিত।

বিশেষ করে বামন্দী মটমুড়া বালিয়াঘাট হাড়াভাঙ্গাসহ সীন্ত অঞ্চলে এ রোগের ভয়াবহতা বেশি। কৃষকরা বলছেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে ছত্রাকনাশক ও ওষুধ স্প্রে করেও কিছুটা সুফল মিলেছে। তবে কিছু আলু গাছ মরে যাওয়ার কারনে আকারে সেই ছোট আলু তুলে ফেলা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে চার ভাগের এক ভাগ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আলু আবাদ করতে ৪০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সেখানে আলু বিক্রি করে ২০ হাজার টাকাও জমছে না।

আলু চাষি আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি দুই জমিতে আলু চাষ করেছেন। এতে প্রায় ৮০ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। ১ বিঘা জমিতে আলু ভালো আছে। বাকি ১ বিঘা আলু গাছ কিছুটা পুড়ে গেছে। এসব আলু আর তেমন ফলন হবে না। তাই বাধ্য হয়ে আলু তুলে ফেলতে হচ্ছে। একই কথা জানালেন আলু চাষি জুরাইস ইসলাম। তার সাড়ে চার বিঘা জমির সব আলু লেট ব্লাইট রোগে আক্রান্ত। এ মৌসুমে মোটা টাকার লোকসান হবে বলেও জানান তিনি।

সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আলু চাষি জাহারুল ইসলাম জানান, এ মৌসুমে ৭৫ টাকা কেজি দরে আলুর বীজ কিনে আলু চাষ করেছিলেন তিনি। ১ বিঘা জমি লিজ নিয়ে আলু চাষে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। রোগাক্রান্ত আলু ছোট অবস্থায় তুলে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন কমে গেছে অর্ধেকে। এবার আলুর বাজারদর খুব ভালো ছিলো তারপর ও উৎপাদন কম হওয়াই লোকশানে পড়তে হবে।

মেহেরপুর কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা শামসুল আলম জানান, চলতি মৌসুমে ৯৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। শুরুতে আবহাওয়া ভালো থাকায় গাছ খুব ভালো হয়েছিলো। কিন্তু জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে তীব্র ঠান্ডা ও কুয়াশায় আলু ক্ষেতে লেট ব্লাইটের আক্রমণে গাছ মরে যাচ্ছে। যার ফলে আক্রান্ত আলুর ফলন কমে গিয়েছে। আসলে বৈরী আবহওয়ার কারনে এমনটি হয়েছে। এ আবহাওয়া কেটে গেলে এ রোগের আক্রমণ কমে যাবে। তাছাড়া চাষিদেরকে বিভিন্ন বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category