বাসযোগ্য নগরী গঠনে আমাদের করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০ টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট কর্তৃক সংস্থার কৈবর্ত সভাকক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা মিঠুনের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংস্থার পরিচালক গাউস পিয়ারী। উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে ঢাকা শহরে পার্ক, খেলার মাঠ, সবুজ এলাকা, জলাধার ও জলাভূমি কমে গিয়ে তাপমাত্রা, দূষণ, যানজট ও নগর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ঢাকা শহরের ৫-৭% মানুষ ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করে বাকি ৯০% এর অধিক মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতে হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহনের উপর নির্ভরশীল। তাই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদ ফুটপাত, রাস্তা পারাপার ও হাঁটাবান্ধব অবকাঠামো এবং নিরাপদে সাইকেলে যাতায়াত ও মানসম্মত গণপরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি পার্ক, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, জলাধার ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণ, কাঁচাবাজারসমূহ মানসম্মত করা এবং এ স্থানগুলো সকলের জন্য প্রবেশগম্য করে তোলা আবশ্যক।
বক্তব্য রাখেন সমাজকর্মী এবং তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সৈয়দা রত্না, বাপা’র হুমায়ুন কবির সুমন, ক্যাব এর অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আকতার, শিশুদের মুক্ত বায়ুসেবন সংস্থার সদস্য মোঃ সেলিম, এ্যাকশন ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের মেরিনা আক্তার, ডিডিপি’র সভাপতি জাকির হোসেন, ব্রেভ এর নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া জাহান, ধানমন্ডি কচিকন্ঠ হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এইচএম নুরুল ইসলাম, বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন, রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সবিতা রাণী পাল, বারসিকের রুমা আক্তার, ডিওয়াইডিএফ এর হেড অব এনভায়রনমেন্ট মো মুন্না হোসেন, গ্রীন ভয়েস এর আহসান হক, ডাব্লিউডিডিএফ এর এ্যাসিস্টেন্ট এডমিন অফিসার রওশন আরা চৌধুরী, ভিডিসি’র এস এম শফিউল ইসলাম, ছায়াতল বাংলাদেশের মিতু খাতুন, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশের পলিসি অফিসার তালুকদার রিফাত পাশাসহ আরো অনেকে।
সভায় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে হেঁটে ও সাইকেলে যাতায়াত, নিরাপদে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত, মাঠ-পার্ক ও এলাকাভিত্তিক গণপরিসর উন্নয়ন, জলাধার রক্ষা, দূষণ হ্রাস, কাঁচাবাজারসমূহ মানসম্মত করে তোলার লক্ষ্যে সুপারিশ তুলে ধরেন।
পাশাপাশি স্থানীয় জ্ঞান, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং মানুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে এই আয়োজনে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর যৌথ উদ্যোগে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।