মুসলিম হিসেবে বাংলাদেশের শহরে, গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় অবস্থিত মসজিদ, মাদ্রাসা কিংবা দ্বীনদরদী মুসলিম ভাইদের উদ্যোগে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন- বেশ পরিচিত একটি চিত্র। এমন দৃশ্য বিশ্বের অন্য কোনো মুসলিম দেশে সাধারণত দেখা যায় না।
আয়োজিত এসব ওয়াজ মাহফিলে প্রাজ্ঞ আলেম, পীর-মাশায়েখ ও বুজুর্গরা সাধারণ মুসলমানদের জন্য ধর্মীয় নানা বিষয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন। দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে, সাইকেল বা বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ সব ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ করে থাকেন এবং সারারাত জেগে, গভীর আগ্রহ সহকারে কোরআন-হাদিসের আলোচনা শোনেন। পর্দার আড়ালের মা-বোনেরাও নিজ বাসা বাড়িতে বা আত্মীয়ের বাড়িতে এসে ওয়াজ শুনে থাকেন। বাংলাদেশের মানুষ যে ধর্মপ্রাণ- এসব ওয়াজ মাহফিলের উপস্থিতি দেখে তা অনুমান করা যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া কারিগরপাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। (০৮ মার্চ) শুক্রবার বাদ আছর হইতে ছেঁউড়িয়া কারিগরপাড়ার কবরস্থান প্রাঙ্গনে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিল। ওয়াজ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন, ছেঁউড়িয়া কারিগরপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মোঃ আবু বকর সিদ্দিক। মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে ওয়াজ করেন চুয়াডাঙ্গা ইবনে আব্বাস (রা) মাদানিয়া মাদ্রাসা মুহতামীম হাফেজ মাওলানা মোঃ এরশাদ আলী নোমানী। দ্বিতীয় বক্তা হিসেবে ওয়াজ করেন, জয়নাবাদ মন্ডলপাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আবুল বাশার। তৃতীয় বক্তা হিসেবে ওয়াজ করেন, জয়নাবাদ বাসিন্দা পাড়ার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন।
উক্ত ওয়াজ মাহফিলের সার্বিকভাবে সহযোগিতায় ছিলেন ছেঁউড়িয়া কারিগরপাড়া গোরস্থান কমিটির সভাপতি রেজাউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান,সহ সকল সদস্য বৃন্দ।
ওয়াজ মাহফিলের দেশ ও বিশ্বের শান্তি কামনা করে আখেরি মোনাজের মধ্যদিয়ে শেষ হয়।