কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আড়াই বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে হত্যার পর মা নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ইনসাফনগর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হত্যা ও আত্মহত্যাকারী রেশমা খাতুন ওই গ্রামের প্রবাসী রহিদুল ইসলামের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছর দুয়েক আগে রহিদুল বিদেশে পাড়ি জমান। তবে প্রবাসে যাওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে সংসারের জন্য টাকা পাঠাতে পারছিলেন না। এতে সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে পড়েন রেশমা খাতুন। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে হয়তো রাগ ও ক্ষোভে সন্ধ্যায় প্রথমে মেয়ে লামিয়া খাতুনকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন এবং পরে নিজেও ঘরের আড়ের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। দীর্ঘ সময় ঘরের দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীরা সন্দেহ করে দরজা ধাক্কা দেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখ দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।