মেহেরপুরে অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে মাদ্রাসা শিশু আলিফ (১১)। আলিফ মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজাপুর গুচ্ছগ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। সে মেহেরপুর ইনতেবাহুল উম্মাহ মাদ্রাসার ছাত্র।
শিশু আলিফ জানায়, রবিবার সকালে মাদ্রাসা থেকে চুল কাটাতে সেলুনের উদ্দেশ্য বের হয়। সেলুনের কাছাকাছি পৌছালে অপরিচিত দুজন মানুষ তাকে ডেকে মাদ্রাসার নাম, ছাত্র ও শিক্ষক সম্পর্কে জানতে চাই। তাদের সাথে কথা বলার একপর্যায়ে তারা হাত ধরে টান দিয়ে মুখ চেপে ধরে। তারপর আর কিছু মনে করতে পারেনি আলিফ। পরে গাংনীতে আলিফকে ঘুম থেকে ডেকে তারা চা পান করায়।
চা পানের পর আলিফ আবারও ঘুমিয়ে পড়ে। তারা কুষ্টিয়াগামী একটি বাসে করে আলিফকে কুষ্টিয়া মজমপুর এলাকায় নিয়ে যায়। এসময় আলিফের ঘুম ভেঙ্গে গেলে আলিফ তাদের পরিচয় জানতে চাই। তখন আলিফকে ভ্যানে তোলার চেষ্টা করলে আলিফকে ধরে রাখা একজনের হাতে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়।
রাস্তায় আলিফকে পেয়ে গাড়াডোব গ্রামের এক ড্রাইভার মেহেরপুর মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বকুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করে। পরে বকুল হোসেন এক শ্রমিকের মাধ্যমে আলিফকে এনে তার বাবার হাতে তুলে দেন।
শিশু আলিফের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে আমি আমার ছেলে মাদ্রাসায় রেখে আসি। এক সপ্তাহ পর পর ওর সাথে দেখা করে আসি। আমি পেশায় একজন ড্রাইভার। গতকাল সকাল থেকে হঠাৎ করে আমার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে চুল কাটাতে সে মাদ্রাসা থেকে বের হয়েছে।
আমার ছেলে সারাদিন মাদ্রাসায় ফেরেনি। ছেলের কি হলো, কোথায় গেল আমাকে কিছুই জানায়নি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যায় জানতে পারি কুষ্টিয়া মজমপুর এলাকায় এক ট্রাফিক পুলিশের কাছে আমার ছেলে আছে। তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছিল। পরে আমাদের শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে রাত ১১টার দিকে আমার ছেলেকে ফিরে পাই।
এদিকে সরোজমিনে গিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে নিখোঁজের বিষয়টি জানতে চাইলে মাদ্রাসা সুপার মুফতি মামুন মুঠো ফোনে বলেন, শিশু আলিফ নিখোঁজ বা অপহরণ হয়েছে বিষয়টি আমিও জানিনা। তবে আলিফের বাবা সন্তানের খোঁজ করলে আমরা সি সি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয় যে আলিফ, বেলা ৯ টার সময় মাদ্রাসা থেকে বেরিয়েছে। ইনতেবাহুল উম্মাহ মাদ্রাসা এবং আবাসিক ও রয়েছে এখানে। তবে নেই শুধু সিকিউরিটি।
শুধুমাত্র সি সি ক্যামেরার উপর নির্ভর করেই চলছে কমলমতি শিশুদের ছাত্রজীবন। ভাগ্যের পরিক্রমায় হয়তো আলিফ বাড়ি ফিরেছে, তবে আলিফের কোন ক্ষতি হলে তার দায় কি নিতান্তয় বাবা মার, নাকি সিকিউরিটি বিহীন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ?