• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বাসযোগ্য নগরী গঠনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাংনীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা দৌলতপুরে ৪ দিন ধরে নিখোঁজ ৩ সন্তানের জননী টগরী আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হওয়ায় মেহেরপুর বিজেপির শুভেচ্ছা মেহেরপুরে বেকারি ও বিরানি কারখানায় যৌথ অভিযানে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা মেহেরপুরে যাবজ্জীবন কারাদন্ড রায় শুনে জ্ঞান হারালেন ধর্ষণ মামলার আসামী গাংনীতে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ

আফ্রিকা থেকে বাড়ি ফেরা হলোনা গাংনীর শফিকুলের

বিবর্তন প্রতিবেদক
Update : রবিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৩
আফ্রিকা থেকে বাড়ি ফেরা হলোনা গাংনীর শফিকুলের
আফ্রিকা থেকে বাড়ি ফেরা হলোনা গাংনীর শফিকুলের

মায়ের কথা রাখতে ১৩ বছর পর বাড়ি আসবে বলে কথা দিয়েছিল ছেলে শফিকুল ইসলাম। এসে বিয়ে করে সংসার পাতবে। দরীদ্র পরিবারের ছেলে সুখ নামের সোনার হরিণ ধরার জন্য একের পর এক বিদেশ পাড়ি জমিয়েছিল শফিকুল। হ্যাঁ শফিকুল ফিরে এসেছে মায়ের কাছে তবে জীবন্ত নয়, লাশ হয়ে। আজ রোববার সকালে তার মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনীর কাষ্টদহ গ্রামে পৌঁছেছে। গত সোমবার (১০ জুলাই) শফিকুলের হাত-পা বাঁধা গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে তার সহকর্মীরা। শফিকুল ওই গ্রামের মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে।
পারিবারিক সুত্র জানায়, শফিকুল ইসলাম তার পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে প্রথমে পাড়ি জমায় কাতারে। সেখানে ১২ বছর থাকার পর বাড়ি ফিরে আসে। সংসারে মা ভাই ও বোনদের সুখের জন্য আবারো পাড়ি জমান সুদুর আফ্রিকায়। নাগরিকত্ব পেতে সেখানে একটি বিয়ে করেন শফিকুল। পরে সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। বেশ ভালই যাচ্ছিল দিন। কিছু দিন পর আফ্রিকান স্ত্রীর সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর পর থেকে শফিকুলকে বিভিন্ন সময়ে জিম্মী করে অর্থ আদায় করা হতো। পরিবারের লোকজন মুক্তিপণ দেওয়ার পর শফিকুলকে দেশে ফিরে আসতে বলে এবং বিয়ে করে সংসার পাততে বলেন মমতাময়ী মা।
শফিকুলও মায়ের কথায় রাজি হয়। বিয়ের জন্য মেয়ে দেখার কাজটিও করছিলেন তার বন্ধুরা। এরই মাঝে ঘটে বিপত্তি। গত সোমবার হঠাৎ তার সহকর্মীরা শফিকুলের হাত-পা বাঁধা গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি বাড়িতে জানানো হয়। এর পর থেকে গোটা পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। অপেক্ষা করতে থাকে শফিকুলের লাশটি একবারের জন্য হলেও দেখার। আজ সকালে শফিকুলের মরদেহ এসে বাড়িতে পৌঁছায়। এসময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনরা।
সকালে শফিকুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এলাকাবাসির ভীড়। আত্মীয় স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মমতাময়ি মা রাহিমা ও বোন মিলি কান্না করছিলেন আর বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। তারা আদরের সন্তান ও ভাইয়ের মরদেহের পাশে বসে বিলাপ করছিল। বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে ছিল চাপা কান্না। তারা জানালেন শফিকুলের মতো একজন সুন্দর ও মুক্তমনের বন্ধু হারালেন তারা।
গাংনী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং পুলিশের একটি টীম শফিকুল ইসলামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category