• শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
গাংনীতে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মেহেরপুর জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটিকে মাসুদ অরুণের অভিনন্দন মেহেরপুরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাবে রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয় শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীতে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল উদ্ধার

দেখার কেউ নেই; গাংনীতে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে লকোচুরি খেলা

বিবর্তন প্রতিবেদক
Update : শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
দেখার কেউ নেই; গাংনীতে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে লকোচুরি খেলা
দেখার কেউ নেই; গাংনীতে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে লকোচুরি খেলা

ঠিকাদারের প্রতিনিধিদের ইচ্ছেমাফিক নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে গাংনী উপজেলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ এবার বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা।

ঢাকার স্থানীয় রড আর নিম্নমানের পাথর ও বালু দিয়ে ঢালাই কাজ করার সময় শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের বাধার মুখে বন্ধ হয়ে যায়। তবে এতকিছুর পরও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় কাজ চলমান থাকায় এলাকার মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ।

জানা গেছে, গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের ফুটবল মাঠে নির্মাণ হচ্ছে গাংনী উপজেলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। গ্যালারি বেজ নির্মানের সময় থেকেই নিম্নমানের রড, পাথর ও বালু নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

মাঠের পূর্ব দিকে নির্মিতব্য প্যাভিলিয়নের ঢালাই কাজ শুরু হয় শুক্রবার সকাল থেকে। প্যাভিলিয়নের বেজ নির্মাণ কাজ চলছিল। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে গ্রেডের রডের সাথে ঢাকার স্থানীয় বাজারের রড। যে রড এরকম বড় প্রকল্পের কাজে ব্যবহার না করার বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

তবে নির্মাণ কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা কার্যসহকারী (ওয়ার্কএসিস্ট্যান্ট) আলমগীর হোসেনের কথা কানে নিচ্ছে না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন। ক্রীড়া পরিষদের কোন দায়িত্বশীল প্রকৌশলী এখানে অনুপস্থিত। ফলে কার্যসহকারী প্রতিবাদ করেও কুলিয়ে উঠছেন না।

এর আগে মাঠের উত্তর দিকে একই সাথে নির্মাণ হওয়া গ্যালারি ও প্যাভিলিয়ন নির্মানে বেজ থেকে শুরু করে পিলার পর্যন্ত ঢাকার ওই রড ও নিম্নমানের বালু পাথর ব্যবহার করা হয়েছে।

যা সরেজমিন পরিদর্শন করে নিম্নমানের এসব উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন। এমপির নির্দেশনা আংশিক মেনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের পাথরের পরিবর্তে কিছুটা ভাল পাথর আনে। তবে নিম্নমানের সেই বালু আর বিতর্কিত রড দিয়েই বেজ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে পূর্ব দিকে নির্মিতব্য গ্যালারি নির্মাণের ক্ষেত্রে ঢাকার লোকাল রড ব্যবহার করা হবে না বলে এমপিকে আশ্বস্ত করেছিলেন সেখানে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা। অথচ শুক্রবার সকালে সেই বিতর্কিত রড দিয়েই ঢালাই শুরু হয়। এতে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।

কাজ বন্ধের বিষয়ে সাহারবাটি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা রাকিবুল ইসলাম টুটুল বলেন, ঢাকার স্থানীয় রড নিম্নমানের। এ রড দিয়ে এতবড় একটি প্রকল্পের কাজ হতে পারে না। তাছাড়া পাথর, বালু নিম্নমানের। সিমেন্টের সাথে মেশানোর সময় নিয়ম না মেনে ঠিকাদারের লোকজনের ইচ্ছেমাফিক কাজ করা হচ্ছে। ফলে এলাকার মানুষের স্বপ্নের স্টেডিয়াম এখন দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে দরপত্রে উল্লেখিত নির্মাণ সামাগ্রী দিয়ে কাজ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার রিপন আলী জানান, এখানে ব্যবহৃত ঢাকার লোকাল রড বুয়েট টেস্ট করা হয়েছে এবং মান ভাল বলে সার্টিফিকেট আছে। তবে তিনি এ সার্টিফিকেট দেখাতে বললে বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে যান।

এদিকে এলাকার লোকজনের বাধায় কাজ বন্ধ হলেও সন্ধ্যার আগে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। তবে কি কারনে কাজ চালু হয়েছে তার সদুত্তোর দিতে পারেননি কাজ দেখভালের দায়িতরত ব্যক্তিরা।

জানতে চাইলে ক্রীড়া পরিষদের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের কার্যসহকারী আলমগীর হোসেন বলেন, এমপি সাহেব বলার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চট্রগ্রাম থেকে নতুন রড নিয়ে এসেছে। এ রডগুলো ভাল। কিন্তু এর সাথে ঢাকার লোকাল রড দিয়ে কাজ করছে। প্রতিবাদ করার পরও ঠিকাদারের লোকজন কথা শুনছেন না বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গাংনীর সাহারবাটি ফুলবল মাঠে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) আওতায় মোট পাঁচ কোটি ৫২ লাখ ২২ হাজার ৯৯৯ টাকা ব্যায়ে এ নির্মাণ কাজ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএস অ্যান্ড এমটি জয়েন্ট ভেন্সার (জেভি)। যা বাস্তবায়নে রয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category