• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বাসযোগ্য নগরী গঠনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাংনীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা দৌলতপুরে ৪ দিন ধরে নিখোঁজ ৩ সন্তানের জননী টগরী আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হওয়ায় মেহেরপুর বিজেপির শুভেচ্ছা মেহেরপুরে বেকারি ও বিরানি কারখানায় যৌথ অভিযানে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা মেহেরপুরে যাবজ্জীবন কারাদন্ড রায় শুনে জ্ঞান হারালেন ধর্ষণ মামলার আসামী গাংনীতে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ

গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের মনিটরিং সার্ভের ফলাফল প্রকাশ

বিবর্তন ডেস্ক:
Update : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের মনিটরিং সার্ভের ফলাফল প্রকাশ
গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের মনিটরিং সার্ভের ফলাফল প্রকাশ

গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ গণপরিবহনে ধূমপানের প্রবণতা কমে এসেছে। পরিবহনে ধূমপানের অভিযোগ করা হলে ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে পরিবহনকর্মীরাই পদক্ষেপ নেয়, যা আইন বাস্তবায়নের একটি ইতিবাচক দিক। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাকক্ষে এক গবেষণা ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠনে এসব মন্তব্য করেন বক্তারা।

ডেভলপমেন্ট এ্যাকটিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস) এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)-এর যৌথ উদ্যোগে গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অবস্থা বিষয়ক কমপ্লায়েন্স মনিটরিং সার্ভের ফলাফল প্রকাশ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

ডাস্-এর টিমলিড আমিনুল ইসলাম বকুল এর সভাপতিত্বে এবং ডাস্-এর প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী মোয়াজ্জেম হোসেন টিপুর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিনিয়র সচিব ও ভাইটাল স্ট্রাটেজিস-এর সিনিয়র কারিগরি পরামর্শক হামিদুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সাবেক সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নীতি বিশ্লেষক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম তাহিন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি এড. আওলাদ হোসেন প্রমুখ। সভায় গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন ডাস্ এর কনসালটেন্ট আসরার হাবিব নিপু। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নাটাব এর প্রকল্প পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, বিইআর-এর প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, এইড ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা আবু নাসের অনিক, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা সামিউল হাসান সজীব, টিসিআরসি’র প্রোগ্রাম অফিসার জুলহাস আহমেদ প্রমুখ।

ডাস্ পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা যায়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ অনুযায়ী গণপরিবহন, বাস টার্মিনাল ও নদীবন্দর ধূমপানমুক্ত ঘোষিত হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলাফলে বেশ কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি উঠে আসলেও টার্মিনাল এলাকায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্বলতা দেখা গেছে।

গবেষণার তথ্যানুযায়ী, যাত্রীদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বেসলাইন জরিপে যাত্রীদের মধ্যে ধূমপায়ীর হার ছিল ৪৩.৯৭ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে ৩৭.৯৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ৮০ শতাংশের বেশি যাত্রী মনে করেন, গত এক বছরে যানবাহনের ভেতরে ধূমপান কমেছে এবং ৯৭ শতাংশ যাত্রী ধূমপানমুক্ত গণপরিবহনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ৭১ শতাংশ যাত্রী জানিয়েছেন, টার্মিনাল এলাকায় ধূমপানের পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ৫৪ শতাংশ যাত্রী ধূমপায়ীদের মুখোমুখি হতে সংকোচ ও সম্ভাব্য বিরোধের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তবে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ জানানো হলে ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে পরিবহনকর্মীরা পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে যাত্রীরা উল্লেখ করেছেন, যা জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে। গবেষণার আরো উঠে এসেছে, দুর্বল আন্তঃসংস্থা সমন্বয়, অস্পষ্ট প্রয়োগ নির্দেশনা, জনসমাগমস্থলে ধূমপানকে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক মনে করা, পর্যাপ্ত জনবল ও জরিমানার সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি আইন বাস্তবায়নে বিশেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে।

এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও যৌথ অভিযান জোরদার, দৃষ্টান্তমূলক জরিমানার ধারাবাহিক প্রয়োগ, চালক ও কন্ডাক্টরের দায়িত্ব নির্দিষ্টকরণ, যানবাহন লাইসেন্সিং ও পরিদর্শনে তামাক নিয়ন্ত্রণ শর্ত যুক্ত করা, যানবাহন ও টার্মিনালে স্থায়ী সাইনেজ স্থাপন, টার্মিনাল এলাকায় তামাক বিক্রয় ও ট্যাপস নিষিদ্ধকরণ, পরিবহনকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হামিদুর রহমান খান বলেন, গবেষণা অনুযায়ী বাসের ক্ষেত্রে আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেখা গেলেও নৌপথে অগ্রগতি বুঝতে হলে সড়ক ও নৌপথের জন্য পৃথকভাবে গবেষণা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক হয়েই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানকে তামাকমুক্ত করতে উদ্যোগ নিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category