কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ হামলা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মোঃ আমিরুল ইসলাম নান্নু (৫০) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে হত্যা করা। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মোঃ আমিরুল ইসলাম নান্নু উত্তর চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে।
হত্যাকান্ডের ঘটনার পর পরই প্রতিপক্ষের লোকজনের বাড়িতে আগুন দিয়ে ৪টি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে এবং ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ‘বুধবার সন্ধায় ইফতারি শেষ করে নান্নু বাড়ি থেকে বেড়িয়ে কেশবপুরে তাঁর মাছ চাষের খামারে যাচ্ছিলেন। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর পথরোধ করে এবং জোরপূর্বক পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে, পাশের কলা বাগানে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আকাশ রেজা ও ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা সবুজ গংদের সাথে নিহত নান্নু মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ চলে আসছিলো। সম্প্রতি গরু মহিষে মাঠের ফসল খাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দের নিরসনে গ্রাম্য সালিশে নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রতিপক্ষের পছন্দসই না হওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারই জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে।
কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকিবুল ইসলাম জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদমান দ্বন্দের জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে। সেখানে নতুন করে সংঘর্ষ ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।