১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। অর্থাৎ’আজকের এই দিনে পাক বাহিনী বাঙলার সূর্য সন্তানদের তালিকা তৈরি করে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যার মিশনে নামে।
তাদের লক্ষ্য ছিলো বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করা। পাক বাহিনী সেই পরিকল্পনা বাস্তবানে ১৯৭১ সালে আত্মসমর্পণের ঠিক দুই দিন আগে তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করার জন্যই এদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে তাদের শেষ আশা পূরণ করে। বুদ্ধিজীবী দিবস শোকের নাকি উদযাপনের।
যারা এ দেশ এনে দিয়েছে, আর যারা এ দেশ বিক্রি করে দিতে চেয়েছিল, তাদের সবার সম্পর্কে না জানলে কী করে এরা জাতির হাল ধরবে?’ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপনের দিন নয়, বরং শোকের। এই শোকের দিনকে নিয়ন আলোকসজ্জায় মেতেছে মেহেরপুর পাসপোর্ট অফিস।
১৪ ডিসেম্বর সারা বাংলাদেশে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করতে পারবে না বলে বুধবার (১৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্তগুলো হলো, বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা। তবে সেটি হতে হবে আমাদের জাতীয় পতাকার নির্দিষ্ট কোড অনুযায়ী।
মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় পতাকার মাপ, রং, আকার ঠিক রেখে উত্তোলন করার কথা বলা হয়। এবং ১৪ ডিসেম্বর সারা বাংলাদেশে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অথচ মেহেরপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট আলোকসজ্জা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আলোকসজ্জার চিত্র দেখা যায়। পুরো পাসপোর্ট অফিস লাল নীল বাতি দিয়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে পুরো অফিস আলোকসজ্জা করে বাংলার সূর্য সন্তানদের অবজ্ঞা করা হয়েছে। বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপনের দিন নয়, শোকের। আর স্বজন হারানোর দিনে এ ধরণের আলোকসজ্জা বেমামান।
এবিষয়ে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপসহকারী পরিচালক মোঃ জাকির হোসেনের ০১৭৩৩৩৯৩৩৭১ নম্বর যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।