বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করতে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে তামাক-ধোঁয়ামুক্ত নির্মল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনপরিসরে ধূমপান নিরোধে আশু পদক্ষেপের কথা ব্যক্ত করেছেন। স্বাস্থ্য নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন অংশীদার এবং তামাক-নিয়ন্ত্রণে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে পরোক্ষ ধূমপান (SHS) প্রতিরোধে “তামাক-ধোঁয়ামুক্ত শহর (TFC)- Tobacco-Smoke Free Cities” শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিলিত হন। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ ইয়র্ক এর সহায়তায় বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর্ক ফাউন্ডেশন আজ বৃহষ্পতিবার হোটেল গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্রান্টে এ আয়োজন করে। আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা শহরাঞ্চলে তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ (সংশোধনী ২০১৩) অনুযায়ী পাবলিক প্লেস তথা জনসমাগমের জায়গা গুলোকে ধূমপান মুক্ত রাখার উপর জোর আরোপ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ও আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রুমানা হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা প্রকল্পের প্রধান গবেষক যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ ইয়র্কের অধ্যাপক হেলেন এলসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মোরশেদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মীর আলমগীর হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা আলী, ঢাকা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণের সেলের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. মোঃ ফরহাদুর রেজা।
গবেষনায় জানানো হয়, ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী আট মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তামাকের কারণে মারা গেছে। এর মধ্যে ১.৩ মিলিয়ন মৃত্যু পরোক্ষ ধূমপানের কারণে হয়েছে। পরোক্ষ ধূমপানের ফলে হওয়া মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশ ছিল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর নারী ও শিশু। “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫”(সংশোধনী ২০১৩) অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশের দুটি শহর, যথাঃ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং নরসিংদীর স্থানীয় সরকার এবং জনগণের সাথে মিলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ‘পাবলিক প্লেস’ তামাক-ধোঁয়ামুক্ত করণের লক্ষ্যে কাজ করা। সম্পূর্ণ কার্যপ্রক্রিয়ায় বিভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহার করে তামাক ব্যবহার প্রতিরোধ ও পরোক্ষ ধূমপান হ্রাস করতে শহুরে এলাকা ও জনগণের উপর এই গবেষণা প্রকল্পের প্রভাব নির্ণয় করা হবে।
এসময় অনুষ্ঠানে দ্য ইউনিয়নের জৈষ্ঠ্য কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহাবুবুল আলম তাহিনসহ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ অফিস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।