• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
গাংনীতে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মেহেরপুর জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটিকে মাসুদ অরুণের অভিনন্দন মেহেরপুরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাবে রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয় শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীতে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল উদ্ধার

লাল ফলের স্বপ্ন: স্ট্রবেরি চাষে কৃষি উদ্যোক্তা মঞ্জুরুলের জয়যাত্রা

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
লাল ফলের স্বপ্ন: স্ট্রবেরি চাষে কৃষি উদ্যোক্তা মঞ্জুরুলের জয়যাত্রা
লাল ফলের স্বপ্ন: স্ট্রবেরি চাষে কৃষি উদ্যোক্তা মঞ্জুরুলের জয়যাত্রা

প্রতিবেশীদের কটূক্তি, সন্দেহ আর উপহাস-সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে গেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মঞ্জুরুল ইসলাম। শুরুটা ছিল ছোট পরিসরে, কিন্তু দৃঢ় মনোবল আর পরিকল্পিত উদ্যোগের ফলে আজ স্ট্রবেরি চাষে তিনি পেয়েছেন একের পর এক সাফল্য। বলছিলাম মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার জয়পুর গ্রামের নেটওয়ার্কিং ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল ইসলামের কথা।

মেয়ের শখ পূরণে প্রথমে দশটি স্ট্রবেরি চারা সংগ্রহ করে বাড়ির ছাদে রোপন করেন। আকর্ষণীয় বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ, খেতে সুস্বাদু আর গাছ ভর্তি ফল দেখে চিন্তায় আসে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার। কয়েক বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে দেড় বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন মঞ্জুরুল। এলাকাবাসীর অনেকেই তখন বিষয়টিকে অবাস্তব বলে মনে করেছিলেন। অনেকে সরাসরি নিরুৎসাহিতও করেন।

তবে তিনি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, মানসম্মত চারা এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ফলন বাড়াতে সক্ষম হন। বর্তমানে তার জমিতে উৎপাদিত স্ট্রবেরি স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছে। শুধু নিজেই লাভবান হননি, আশপাশের অনেক তরুণ কৃষকও তার অনুপ্রেরণায় স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

ইতোমধ্যে প্রায় চার লক্ষ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি হয়েছে বাগান থেকে। তার আশা সবকিছু ঠিক থাকলে গাছ প্রতি ১’শ টাকার ফল বিক্রি হলেও আরো ১৩ লক্ষ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি হবে এই জমি থেকে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত ফল সংগ্রহ হচ্ছে। প্রতি কেজি ফল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। মার্চ মাস পর্যন্ত গাছগুলি থেকে নিয়মিত ভাবে ফল পাওয়া যাবে। অল্প সময়ে অধিক মুনাফা হওয়ায় স্থানীয় চাষিদের মাঝেও এ চাষ করার আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

সরজমিনে স্ট্রবেরি বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে লাগানো স্ট্রবেরি গাছ। প্রতিটি গাছে শোভা পাচ্ছে ফুল, সবুজ ও টসটসে লাল পাকা স্ট্রবেরি। বিক্রির জন্য স্ট্রবেরি তোলার কাজে ব্যস্ত চাষিরা। স্ট্র্রবেরির আবাদ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

স্থানীয় চাষী হাফিজুল বলেন, জেলাতে স্ট্রবেরি প্রথম চাষ। ফলটি দেখতে লোভনীয় এবং খেতেও অত্যান্ত সুস্বাদু। লাভজনক একটি ফসল। মঞ্জুরুল ভাইয়ের পরামর্শ ও স্ট্রবেরি চারা নিতে এখানে আসা। আমিও এই চাষ করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

স্ট্রবেরি ক্ষেতে কাজ করা জিয়াউর রহমান বলেন, আমি দুই মাস ধরে এখানে কাজ করছি। নতুন ফসল হিসেবে অনেক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন সকালে এই ফল তুলি। অন্য কাজের পাশাপাশি এখানে শ্রম দিচ্ছি। আমাদের নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে।

স্ট্রবেরি চাষি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, মেয়ের শখ পূরণ করতেই প্রধমে কয়েকটি চারা দিয়ে স্ট্রবেরি চাষ শুরু। পরে চাষটি বাণ্যিজিকভাবে করতে রাজশাহী টিস্যু কালচার থেকে চারা সংগ্রহ করে দেড় বিঘা জমিতে চাষ করি। বিষয়টিকে প্রথমে অনেকেই অবাস্তব বলে মনে করেছিল।

অনেকে সরাসরি নিরুৎসাহিতও করেছিল। কিন্ত প্রথমবারেই সফলতা আসে। এরপর থেকে এই চাষেই ঝুকে পড়ি। এবছর আড়াই বিঘা জমিতে মোট ১৭ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত ফুল ও ফল এসেছে। এতে পাচ লক্ষ টাকার কিছু বেশি খরচ হয়েছে।

আশা রাখি সবকিছু ঠিক থাকলে গাছ প্রতি ১’শ টাকার ফল বিক্রি হলেও ১৭ লক্ষ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি হবে। তিনি আরও বলেন, জেলা বা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোন ধরণের সহযোগিতা পাইনি। শুরুতে অনেক বাধা আসলেও নিজের প্রচেষ্টায় এই পর্যন্ত আমি পৌছেছি।

আমি বিশ্বাস করেছি পরিশ্রম করলে ফল পাওয়া যায়। এখন আমার লক্ষ্য আরও বড় পরিসরে চাষ সম্প্রসারণ করা। তার মতে চাকরির নামে সোনার হরিণের পেছনে না ছুটে বা বিদেশে না গিয়ে স্ট্রবেরি চাষে মনোযোগী হলে ভাগ্য ফিরতে পারে দেশের অনেক বেকার যুবকের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category