মেহেরপুর জেলার উপর দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই মৃদু শৈত প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দু-এক দিন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে শৈতপ্রবাহ মুক্ত হলেও বেশিরভাগ দিন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেই থাকছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ না হওয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েই শিশুরা যাচ্ছে বিদ্যালয়ে। এতে অভিভাবকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে গেলে বিদ্যালয় বন্ধের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়েও বিপাকে পড়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা।
গেল মধ্য রাত থেকেই শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীত অনুভূত হচ্ছে অনেক বেশি। মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে সোমবার (২২ জানুয়ারী) সকাল ৬ টায় সর্বনিম্ন ৯.৭ এবং সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস।
এদিকে কনকনে শীত উপেক্ষা করেই শিশুরা উপস্থিত হয়েছে বিদ্যালয়গুলোতে। জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩০৮টি এবং প্রাইভেট স্কুল রয়েছে আরও ১৬০টি। এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিদ্যালয় খোলা রাখায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পড়েছেন বিপাকে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে নানা অসুখে পড়ছেন। ফলে অভিভাবকদের মাঝে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ।
কয়েকজন শির্ক্ষাথী জানায়, শীতে বিছানা ছেড়ে উঠতেই কষ্ট হয়। কিন্তু স্কুল চললে আমি পিছিয়ে পড়বো সেই ভয়ে শীত ও কুয়াশায় আসতে কষ্ট হলেও আসি। একই কথা জানালো অন্য শিক্ষার্থীরাও
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিভাবকরা জানান, শীতের জন্য আমাদের নিজেদেরই বিছানা থেকে বের হতে মন চাইনা। যদিও সংসারের সবার খাবার তৈরিসহ অন্যান্য কাজের প্রয়োজনে উঠলেও বাচ্চাদেও ওঠানো কঠিন হয়। এসময় যদি কিছুদিন ছুটি হতো তাহলে শিশুরা সুস্থ্য থাকতে পারতো। আমার বাচ্চার টনসিলের সমস্যা তবুও স্কুল খোলা থাকায় তাকে নিয়ে আসতে হয়েছে।
বাচ্চাকে সকালে তুলে রেডি করে রাস্তায় এসে গাড়িও পাওয়া যাচ্ছে না। এমন সমস্যার মধ্যেও বাচ্চা নিয়ে আসতে একটু বেশিই সমস্যায় পড়ছেন বলেও জানান আরো বেশ কয়েকজন অভিভাবক।
প্রধান শিক্ষক ফিরোজ হোসেন জানান, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা এলাকায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। আমাদের শিক্ষার্থীদের আসতেও কষ্ট হচ্ছে কিন্তু শিক্ষা অফিস থেকে কোন নির্দেশনা না পাওয়ায় বিদ্যালয় খোলা রাখতে হয়েছে।
জেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান জানান, বিদ্যালয় শুরু হয় সকাল নয়টায়। আর বিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশনা এসেছে সকাল সাড়ে দশটায়। এজন্য বিদ্যালয় বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিদিনের নোটিশ রাতের আবহাওয়ার উপর দেওয়া হবে।