মেহেরপুরে বয়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার দুপুর আজ শনিবার তিনটায় চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৪২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শুক্রবার চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
প্রচ- তাপপ্রবাহে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি। চরম গরম অনুভূত হওয়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। সাধারণ মানুষ ছাতা মাথায় অথবা অটোরিকশায় চলাচল করছেন। এই গরমে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষেরা। তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা পেতে তাঁরা মাথায় ক্যাপ অথবা গামছা পরে চলাচল করছেন। আর কৃষি শ্রমিকেরা বাঁশের তৈরি মাথাল মাথায় দিয়ে খেতে কাজ করছেন। তবে একটু পরপরই ক্লান্তি দুর করতে ছায়ায় বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে।
গাংনী উপজেলা শহরের নসিলা ড্রাগ হাউজের সামনে জুতা বিক্রি করেন কাজল। কাঠফাটা রোদের মধ্যেই আজ দুপুরে ফুটপাতে চট বিছিয়ে তাঁকে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। মাথায় একটি গামছা দিয়ে বসলেও সমানে ঘামছিলেন। আলাপকালে তিনি বলেন, জুতা বিক্রি করে ৫ সদস্যের সংসার চালাতে হয়। বেশ কয়েকদিন গরমের দাপট চরমে। মনে হচ্ছে গরমে গা পুড়ে যাবে। শরীর পারছে না বসে থাকতে, তারপরও পেটতো আর শোনে না।
মেহেরপুর বড়বাজারের অটোবাইক চালক সাইদ বলেন, আজ বেশ কিছুদিন গরম বেশি পড়ছে। এই রোদের মধ্যে যাত্রির জন্য দাড়িয়ে থাকতে থাকতেই ঘেমে শেষ। শরীরের কথা ভাবতে গেলে দুএকটা যে যাত্রী আসছে তাও আর পাওয়া যাবে না।
অপরদিকে প্রচ- তাপপ্রবাহের ফলে তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই পান করছেন রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী শরবত। এতে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন পেটের পীড়ায়। গত দুই দিনে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১০৮ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশই ডাইরিয়া ও জ¦রে আক্রান্ত।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ মার্চ থেকে এ অঞ্চলে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ওই দিন জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৭ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস। পর্যায়ক্রমে ১৬ মার্চ ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৭ মার্চ ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৮ মার্চ ৩৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৯ মার্চ ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৩০ মার্চ ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১ এপ্রিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এভাবে ৩ এপ্রিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৫ এপ্রিল ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৩ এপ্রিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৪ এপ্রিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৫ এপ্রিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৬ এগ্রিল ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চলতি মাসের ৭ মে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ৮ মে ছিল ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, সকাল থেকেই আকাশ মেঘমুক্ত পরিষ্কার, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। পশ্চিম থেকে গরম হাওয়া প্রবেশ করায় তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। আগামী দুই দিন তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি অব্যাহত থাকবে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুপ্রভা রাণী জানান, তাপ প্রবাহ চলাকালে প্রয়োজনীয় কাজ দিনের প্রথমার্ধে সেরে নিতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হওয়াই ভালো। প্রত্যেককেই পানিসহ বেশি বেশি তরল খাবার ও ফলমূল খেতে হবে। ভাজাপোড়া ও চা-কফি এড়িয়ে চলতে হবে। গরমজনিত রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।