তীব্র তাপদাহে মেহেরপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আজ রোববার মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস। একটানা ১৬ দিন ধরে এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ তামমাত্রার পারদ ছোয়ার রেকর্ড। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষের। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ভিড় বাড়ছে রোগিদের।
চলছে বৈশাখ মাস। গেল চৈত্রের রোদের চোখ রাঙানী এখনও বিদ্যমান। তীব্র তাপদাহ ও গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রাণিকূল ওষ্ঠাগত। স্বাভাবিক জিবন যাত্রা ব্যহত হচ্ছে। সব চেয়ে বেশি সমস্যা খেটে খাওয়া মানুষের। অনেকেই কাজ করতে না পারায় অভাব অনটনে রয়েছেন। আবার সংসারের কথা ভেবে অনেকেই বাইরে যাচ্ছেন কাজের সন্ধানে। ফলে অসুস্থ হয়ে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। অপরদিকে ঈদ সামনে রেখে বাড়তি ভাড়ার আশায় বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন ভ্যান চালকরা। কিন্তু দীর্ঘ সময় রোদের মধ্যে অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্খিত পরিমাণ যাত্রী। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তেমন যাত্রী পাচ্ছেন না এসব শ্রমজীবী মানুষেরা। ফলে পরিবারের ঈদের খরচ জোগানো নিয়ে শংকিত তারা।
শনিবার মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে চুড়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস। যা একটানা ১৬ দিন ধরে এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ তামমাত্রার পারদ ছোয়ার রেকর্ড। এত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষের।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোদ যেন আগুনের ফুলকি হয়ে ঝরছে। বিশেষ করে দুপুরের পর আগুন ঝরা রোদের তেজে বাইরে বের হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে। চলমান তাপদাহে সবচেয়ে কষ্টে পড়েছে খেটে খাওয়া নিমজুর, রিকশা-ভ্যান চালক ও কৃষকরা। তীব্র রোদে মাঠে টিকতে পারছে না কৃষক ও দিনমজুররা।
মেহেরপুর শহরের বেশ কয়েকজন রিক্সাচালক বলেন, খুব সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। রোজা মুখে সকালে কয়েকটা খ্যাপ মারা হয়েছে। দুপুরে কোন লোকজন না থাকায় ছায়ায় বসে আছেন তিনি।
বেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, একেবারই ভীড় নেই। রোদে কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারছেনা। তবে বিকেল থেকে ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে ডাব, তরমুজ ও শরবতের দাম বেড়েছে।
এদিকে হাসপাতালে প্রচ- ভিড় থাকায় রোগী দেখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ডাক্তারদের। বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, হৃদরোগসহ নানা রোগ। শিশু ও বৃদ্ধরা ব্যাপক হারে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, ‘সাধারণত তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসাবে টানা ৯ দিন মাঝারি তাপপ্রবাহের পর এবার তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। টানা ১২ দিন ধরে এ জেলায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে। তার সঙ্গে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে একটানা ১০ দিন ধরে।