মেহেরপুর সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামে আরজিনা খাতুন (৩২) ও স্বামী মানিক হোসেন (৪০) নামের এক দম্পতির উপর হামলা চালিয়ে বাঁশ ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে প্রতিবেশী কুদ্দুস, শান্ত ও মুসা নামের তিন ব্যক্তি। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ফতেপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় আরজিনা ও তার স্বামী মানিককে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহত সূত্রে জানা গেছে, আরজিনা খাতুনের নানী দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ ফতেপুর প্রধান সড়কের পাশে খাস জমিতে বসবাস করছিলেন। নানী মারা গেলেও বর্তমানে সেখানেই আরজিনা তার স্বামী মানিক ও এক কন্যা সন্তান নিয়ে ১২ বছর যাবৎ একটি ছোট্ট ঘরে বসবাস করে। পাশাপাশি একটি মুদিখানার দোকান দিয়ে কোনভাবে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অসহায় পরিবার হিসেবে আরজিনাকে ওই জায়গাতে বসবাসের জন্য মৌখিকভাবে অনুমতিও দিয়েছে। আরজিনার বসবাস করা জমির পিছনে কুদ্দুসের জমি আছে। সেই জমির পজিশন দখল করতে আরজিনাকে সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদ করার পায়তার শুরু করে কুদ্দুস ও তার লোকজন। খাস জমি নিজের দাবী করে কুদ্দুস ও তার লোকজন জমি ছাড়তে আরজিনাকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ও দোকান ভাংচুরের হুমকি দিয়ে আসছিলো। জমি দখল নিতে আরজিনার নামে আদালতে একাধিক মামলাও করে কুদ্দুস। মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে জমি নিতে না পারায় মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করে কুদ্দুস, শান্ত ও মুসা দোকান ভেঙ্গে দেবে বলে একেরপর এক হুমকি দিতে থাকে। এসময় আরজিনা ও তার স্বামী মানিক প্রতিবাদ করলে তারা বাঁশ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে দু’জনকে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আরজিনা ও মানিককে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। রক্তাক্ত জখম হওয়ায় তাদেরকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা দুজন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।