মেহেরপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার আমঝুপিতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আধা ঘন্টা চলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের একটি টিম গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসে।
আহতরা হলো, আমঝুপি উত্তর পাড়ার রাজা মেম্বারের ছেলে মোস্তাক রাজা(৩৫), আমঝুপি পশ্চিম পাড়ার মৃত রহিমের ছেলে কবির(৩০), রবি শেখের ছেলে আরিফুল ইসলাম(৫৫) ও আমিরুল ইসলামের ছেলে লিজন(৪৫)। আহতদের উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ৫ জন বর্তমানে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
আহত সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা বাসে করে আমঝুপিতে ফিরছিলেন। বাসটি আমঝুপি বাজারে সাইফুল ইসলামের অফিসের সামনে পৌছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাইফুল ইসলামের সমর্থকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বাস ভাংচুর করে এবং বাসে থাকা লোকজনের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এসময় দুটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব পৌছায়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী দু’পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। সংঘর্ষের ঘটনায় ওই এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এবিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।