নিখোঁজের চারদিন পর মুজিবনগরের বিশ্বনাথপুর গ্রামের একটি বাঁশ বাগান
থেকে বিজন (২৬) নামের এক ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৯অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্বনাথপুর গ্রামের একটি বাঁশ বাগানে গর্তের মধ্যে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে কি কারনে এই হত্যাকান্ড তা অচিরেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত বিজন মোনাখালী গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল ২৬ অক্টোবর বিকেলে ইজিবাইক নিয়ে ভাড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় বিজন। সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ থাকলেও রাত থেকেই তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কোন সন্ধান না পেয়ে পরিবারের লোকজনসহ সন্ধান চেয়ে ২৭ অক্টোবর তার চাচা ইউনুস আলী মুজিবনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বনাথপুর গ্রামের ভাদু মল্লিক রবিবার দুপুরে তার বাঁশ বাগানে গিয়েছিলেন কাজে। মোনাখালী আর বিশ্বনাথপুর গ্রামের মাঠের মধ্যেই এই বাঁশ বাগানের অবস্থান। বাগানের মধ্যে অস্বাভাবিক গন্ধ তার নাকে আসছিল। বিষয়টি তিনি স্পষ্টভাবে আচ করতে না পেরে বাড়ি ফিরে আসেন। বাঁশ বাগানে অস্বাভাবিক গন্ধের বিষয়টি নিয়ে এদিন রাতে চায়ের দোকানে বসে থাকা গ্রামের লোকজনের সাথে আলাপ করেন তিনি। লিজনের নিখোঁজের বিষয়টি চায়ের দোকানে বসা কয়েকজন অবগত ছিলেন। লিজনকে হত্যা করে সেখানে পুঁতে রাখা হতে পারে এমন সন্দেহে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। রাত ৯ টার দিকে মুজিবনগর থানা পুলিশের একটি দল ওই গ্রামের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ভাদু মল্লিকের বাঁশ বাগানে অনুসন্ধান চালায়। পুরো বাগান তল্লাশি করার এক পর্যায়ে বস্তাবন্দী মরদেহের খোঁজ মেলে। বাঁশ বাগানের মধ্যে কিছু অংশ গর্ত করে তার মধ্যে বস্তায় লাশ ছিল। যা উপর থেকে বস্তার অবস্থান বোঝা যাচ্ছিল না।
মুজিবনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী রাসেল ও ডিবির ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, লিজনকে হত্যা করে গুম করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশের কয়েকটি দল।