• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের মাটি ও মানচিত্র রক্ষা করা ছাত্র ও যুবকদের দায়িত্ব-নাহিদ ইসলাম

Reporter Name
Update : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
বাংলাদেশের মাটি ও মানচিত্র রক্ষা করা ছাত্র ও যুবকদের দায়িত্ব-নাহিদ ইসলাম
বাংলাদেশের মাটি ও মানচিত্র রক্ষা করা ছাত্র ও যুবকদের দায়িত্ব-নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের মাটি ও মানচিত্র রক্ষা করা বাংলাদেশের ছাত্র ও যুবকদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। জাতীয় নাগরিক পার্টি সেই লক্ষ্যে কাজ করবে। মানুষকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করবে। ভারত যদি বাংলাদেশের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক চায়, তাহলে তা সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে হতে হবে।

বুধবার (৯ জুলাই) রাতে দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহের পায়রা চত্বরে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন বিএসএফ কোনো সীমান্তরক্ষী বাহিনী নয়, এটি একটি খুনি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফ পাখির মতো বাংলাদেশিদের হত্যা করছে। এ বাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে।

তিনি জানান, সংস্কার, হাসিনা ও আ’লীগের বিচার, নতুন সংবিধান এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরবে এনসিপি। বাংলাদেশের মানুষকে খুন করা তার একমাত্র দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ১৬ বছর ধরে টিকে ছিল গুম-খুন মানুষকে হত্যা করে, এই ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সমর্থনে। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, সীমান্তে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেব না।

তিনি আরো বলেন, গত ৫৪ বছর বাংলাদেশের মানুষকে গোলামির জীবনযাপন করতে হয়েছিল ভারতের আধিপত্যের কাছে। এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বারবার ক্ষুন্ন হয়েছে ভারতীয় আধিপত্য দ্বারা। চব্বিশের আন্দোলনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছিল। সেই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর শেখ হাসিনা নিজেই গুলি চালানোর অর্ডার দিয়েছিলেন।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গণঅভ্যুত্থানে যে মারণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে তা চালানোর অর্ডার দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এ সকল হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী খুনি হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘টেরোরিস্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “হাসিনা চ্যাপ্টার ক্লোজড, আ’লীগ উইল নেভার কাম ব্যাক।” বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ দিবসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পদযাত্রা ও পথসভায় তিনি এসব বক্তব্য দেন। হাসনাত বলেন, “মধ্য এশিয়ার টেরোরিস্ট হচ্ছে গুজরাটের কসাই নরেন্দ্র মোদি। আরেক টেরোরিস্ট হাসিনাকে প্রশয় দিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। হাসিনা ও ছাত্রলীগ উভয়েই সন্ত্রাসী।”

তিনি অভিযোগ করেন, “ভারতের মাটিতে বসে হাসিনা আমাদের জুলাই বিপ্লবীদের হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। আ’লীগের প্রেতাত্মারা ভারত ও লন্ডন থেকে যতই ষড়যন্ত্র করুক, বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগের আর কোন প্রত্যাবর্তন হবে না।”এনসিপি নেতৃবৃন্দ বিচার সংস্কার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচনে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। হাসনাত বলেন, “আমরা নির্বাচনের আগে বিচার ও সংস্কার নিশ্চিত করতে চাই। আগে বিচার, পরে নির্বাচন। এই যুদ্ধ দেশ পুনর্গঠনের যুদ্ধ।” তিনি সাংবাদিকদের আর্থিক দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, “বেশিরভাগ সাংবাদিককে পরিচয়পত্র ও বুম ধরিয়ে বলা হয় – এলাকায় গিয়ে কেটে খাও।”

সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, নাসির উদ্দীন পাটোয়ারি, ডাক্তার তাসনীম জারা, সারজিস আলম, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্জিস আলমের পরিচালনায় পথসভায় এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা, শহীদ রাকিবের মা হাফিজা খাতুন ও শহীদ সাব্বিরের পিতা আমোদ আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

সমাবেশকে ঘিরে ঝিনাইদহ শহরের প্রধান সড়কগুলো ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টারে ছেয়ে গেছে। রঙিন ব্যানারে ফুটে উঠেছে শীর্ষ নেতাদের মুখচ্ছবি। নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ, যা অনেকের চোখে এক ‘নতুন রাজনৈতিক জাগরণের’ ইঙ্গিত। কর্মসূচি সফল করতে এনসিপির জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category