• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মেহেরপুরে স্কুল ছুটির পর ভেতরেই তালাবদ্ধ শিশু: আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার নিয়ন্ত্রণহীন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচে শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি বর্ণাঢ্য আয়োজনে মেহেরপুরে পালিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ বর্ণিল আয়োজনে গাংনীতে বাংলা বর্ষবরণ মুজিবনগরে গৃহবধূকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড গাংনীতে উপজেলা শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মেহেরপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ মেহেরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই হুসাইনের মৃত্যু প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন

মেহেরপুরে স্কুল ছুটির পর ভেতরেই তালাবদ্ধ শিশু: আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার

বিবর্তন প্রতিবেদক
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
মেহেরপুরে স্কুল ছুটির পর ভেতরেই তালাবদ্ধ শিশু: আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার
মেহেরপুরে স্কুল ছুটির পর ভেতরেই তালাবদ্ধ শিশু: আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার

কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ

স্কুল ছুটির ঘণ্টা বেজেছে বিকেল ৪টায়। অন্য সব শিক্ষার্থীর মতো বাড়ি ফেরার কথা ছিল তৃতীয় শ্রেণীর শিশু সাদিয়ারও। কিন্তু বিধি বাম! সবাই চলে গেলেও বাথরুমে যাওয়ার কারণে সে স্কুলের ভেতরেই থেকে গিয়েছিল সাদিয়া, আর সেই অবস্থাতেই ভবনের মূল গেটে তালা দিয়ে চলে যান শিক্ষকরা। ভবনের মধ্যে আটকা পড়ে থাকে আট শিশুটি। দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা পর বিকেল সাড়ে ছয়টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) মেহেরপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই ঘটনাটি ঘটে। শিশু সাদিয়া শহরের পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলামের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার স্কুল ছুটির ঠিক আগ মুহূর্তে সাদিয়া বাথরুমে গিয়েছিল। সে বের হওয়ার আগেই বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা ভবনের ভেতরে কেউ আছে কি না তা যাচাই না করেই কলাপসিবল গেট ও মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। বাথরুম থেকে বের হয়ে সাদিয়া স্কুল জনশূন্য ও বিদ্যালয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখে। সে ভয়ে ও আতঙ্কে সে দীর্ঘক্ষণ কান্নাকাটি ও চিৎকার করলেও শুরুতে তা কারও নজরে আসেনি।

বিকেল সাড়ে ছয়টার দিকে স্কুলের মূল ফটকের সামনে একজন পেয়ারা বিক্রেতা বাথরুমে যাওয়ার জন্য স্কুলের ভিতর প্রবেশ করে। এ সময় জনশূন্য ও তালাবদ্ধ স্কুলে সাদিয়াকে দেখে সে চমকে ওঠে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এসময় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল দরজা ভেঙে বা খুলে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায়, স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যকে ডেকে তার উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এসময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনাটি গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে ফোন কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী মোবাইল নম্বরটিতে কল দিলেও কর্তৃপক্ষ কল রিসিভ করেনি। এতে করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় বারোটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category