সুস্থ নারী সুস্থ সমাজ ও দেশ গঠনের কারিগর। নারীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিতের মাধ্যমেই একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে উঠতে পারে এবং মানসিক সুস্থতা নির্ভর করে অথনৈতিক, সামাজিক নিরাপত্তার উপর। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারীর অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাকে সমানভাবে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টিকে তুলে ধরে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের উদ্যোগে আজ রবিবার (৮ মার্চ) সকাল ১১ টায় ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
“নারী ও কন্যাশিশুর অধিকারঃ নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য” শীর্ষক এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের কমিউনিকেশন অফিসার শানজিদা আক্তারের সঞ্চালনায় এবং প্রকল্প কর্মকর্তা কৃষ্ণা বসুর উপস্থাপনায় সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড হসপিটালের রেজিস্ট্রার এবং আকিদাহ লিমিটেড এর কনসালট্যান্ট ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা জ্যোতি।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করলেও নারীর নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য এখনো অবহেলিত। যা নারীর অধিকার নিশ্চিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীরা প্রতিনিয়ত পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সহিংসতা ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। সেইসাথে সামাজিক বৈষম্য ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, আর্থিক অনিরাপত্তা ও নির্ভশীলতা, আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাব, প্রযুক্তিগত অপব্যবহার নারীদের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এসব সমস্যার কারণে তাদের বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। নারীদের এই মানসিক সমস্যা কেবল তাদের ব্যক্তিগত জীবনকেই প্রভাবিত করে না বরং দেশের সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বক্তারা আরো বলেন, আমাদের সমাজে নারীর অবদানকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না । অনেক ক্ষেত্রে নারীর মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। সমাজে এখনও বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, আত্মহত্যা বিরাজমান। যা নারীর অধিকার সুরক্ষায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার সদিচ্ছার বিষয়টি দৃশ্যমান হতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও জ্ঞানের পাশাপাশি নারী সহিংসতা রোধে নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নারীর সাবলম্বী হওয়া জরুরি। নারী যেন তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী দেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে পারে সরকারকে সে বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে নারীর মানসিক সুস্থতা উন্নয়নে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যকে অন্তর্ভুক্ত করাটা এখন সময়ের দাবী।
পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। বেসরকারী সংগঠনের উদ্যোগের পাশাপাশি নারীর স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নে সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। সভা থেকে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে নারীর অধিকারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নারীর অধিকার সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।
বারসিক, সাথী, প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, কারাপাড়া নারী কল্যান সংস্থা, ডাস বাংলাদেশ, সমন্বিত প্রমিলা মুক্তি প্রচেষ্টা, অন্তরঙ্গ, পল্লী সাহিত্য সংস্থা, দিনাজপুর কমিউনিটি ডেভেলমন্ট সেন্টার, সামস, ছায়াতল বাংলাদেশ, ডিডিপি, সাফ, দুস্থ মানব উন্নয়ন সংস্থা, পিডিএস, লফস, আইডাব্লিউবিসহ আরও ১৩টি সংগঠন অংশগ্রহন করেন।