গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউপির সংরক্ষিত আসনের মেম্বার কসবা গ্রামের সুফিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। একসময় দুর্দান্ত প্রভাবশালী এই মেম্বার নিজেকে ক্ষমতাধর হিসেবে প্রচার চালিয়ে সুবিধা বঞ্চিতদের সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এমন কোন সুবিধা নেই যা তিনি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেননি। বিনিময়ে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। তবে কেউ সুবিধা পেয়েছেন কিনা তা প্রমান মেলেনি।
এলাকার অন্ততঃ সহশ্রাধিক ব্যাক্তির কাছ থেকে তার ভাসুরের ছেলে শহিদুল এই টাকা নিয়েছেন বলেও স্বীকার করেছেন এই জনপ্রতিনিধি। ওই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি তিনি। অপরদিকে মেম্বারের নির্দেশে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন শহিদুল।
কসবা গ্রামের গৃহবধু নেকজান জানান, তার পুত্র বধু সন্তান সম্ভবা। শিশু ভাতা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৫০০০ টাকা হাতিয়ে নেন সুফিয়া। সন্তানের বয়স এখন এক বছর। অথচ আজো শিশু ভাতা পাননি। একই পাড়ার সদরুলের স্ত্রী রোজিনা খাতুন জানান, তার মাতৃত্ব ভাতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩ হাজার টাকা নেয়। অদ্যাবদি কোন ভাতা কার্ড মেলেনি। এদিকে প্রতিবন্ধী না হয়েও প্রতিবন্ধী ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে জইরদ্দীনের স্ত্রী আকলিমার কাছ থেকে নেওয়া হয় ৪ হাজার টাকা।
অপরদিকে উজির আলীর স্ত্রী তসলিমা খাতুনের কাছ থেকে টিসিবির কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে সাড়ে ৮০০ টাকা ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডের জন্য ৪ হাজার টাকা গ্রহন করেন। শুধু নেকজান আকলিমা কিংবা রোজিনা নয়, তাদের মতো এলাকার অন্ততঃ সহশ্রাধিক মানুষকে সুবিধা দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন এই সুফিয়া মেম্বার।
এ ব্যাপারে সুফিয়া মেম্বার জানান, তিনি কোন ব্যাক্তির কাছ থেকে টাকা নেননি। কাউকে সুবিধা দেওয়ার কথাও বলেন নি। তার নাম করে তার ভাসুরের ছেলে শহিদুল টিসিবির কার্ডের জন্য এক হাজার জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে নিয়েছে। তবে এ টাকা উত্তোলনের বিষয় ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন শহিদুল। তিনি জানান, তার চাচি সুফিয়া মেম্বরের নির্দেশে সবার কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে।