মেহেরপুরের গাংনীতে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৬ দিনে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্ত পরীক্ষা করে শনাক্ত করা হয়েছে ৯১ জনকে। অন্যদিকে দুটি ক্লিনিকে আরো ৪ জনের শরীরে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। সবাইকে সচেতন হবার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে হাসপাতালে আলাদা কোন ডেঙ্গু ওয়ার্ড না থাকায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন অন্যান্য রোগীরা। তাছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীরাও মশারী না টাঙ্গানোর কারণে ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা শতভাগ।
জানা গেছে, শহর ও গ্রামাঞ্চলে সর্দি কাশি ও জ্বরের প্রভাব দেখা দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের লোকজন পরীক্ষা- নিরীক্ষা ছাড়াই হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরে অবস্থা গুরুতর হলে তারা হাসপাতালে আসছেন। এখানে রক্ত পরীক্ষা করলেই মিলছে ডেঙ্গুর জীবানু। গেল বছর জুলাই আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৭ জন। আর চলতি বছরের গত আড়াই মাসে ৩৪১ জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। আর চলতি মাসের গত ২৫ দিনে আক্রান্ত হয়েছে ৯১ জন। এদের মধ্যে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ মাসে আরো আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন চিকিৎসকরা।
ভাটপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে রিয়াজতুল্লাহ জানান, বেশ কয়েকদিন আগে জ্বর হয়। সে সময় গ্রামের ফার্মেসী থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ার পরও জ্বর কমেনি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে রক্ত পরীক্ষার পর ধরা পড়ে ডেঙ্গু। একই কথা জানালেন বেতবাড়িয়ার বাবুর ছেলে সাব্বির শিমুলতলার জহুরুল। তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর আব্দুল লতিফ হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে তিনি বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নেবেন বলে জানান। মালসাদহ গ্রামের একলাছ জানান, গত কয়েকদিন যাবত জ্বর আসছে ছাড়ছে। প্যারাসিটামল ট্যাবলেট সেবনের পরও জ্বর না কমলে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তখন ধরা পড়ে ডেঙ্গু। তাই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
রোগিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ জ্বর আসলে শরীর কেঁপে উঠে ও চোখ মুখ লাল হয়ে যায়। হাত পায়ের গিরায় গিরায় ব্যথা হয়। বমি বমি ভাব লক্ষ্যণীয়। খাবারে সম্পুর্ণ অরুচী। শরীরে কোন শক্তি পাওয়া যায় না। তারা আরো জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ রোগীদের সাথে রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ রোগিরা রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। যারা অন্য রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন তাদের অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছে ডেঙ্গুতে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুপ্রভা রানী জানান, গেল বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। প্রতিদিনই হাসপাতালে সম্ভাব্য ডেঙ্গু রোগীর ভিড় বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, আলাদা কোন ওয়ার্ড সেই সাথে লোকবল সংকটের কারনে একই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের রাখা হচ্ছে। তবে ডেঙ্গু রোগীদেরকে মশারী টাঙিয়ে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগিরা কথা মানছে না। একটু চাপাচাপি করলে তারা বাড়িতে চলে যাচ্ছে। সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতার জন্য মাইকিং করা হবে বলেও জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।