• শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মেহেরপুর জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটিকে মাসুদ অরুণের অভিনন্দন মেহেরপুরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাবে রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয় শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীতে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল উদ্ধার গাংনীতে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের নিচে ব্যাগ দেখে বোমা আতঙ্ক: ব্যাগে মিলল গমের ময়দা

গাংনীতে শতবর্ষী রাস্তা ঘিরে গাছ রোপন: জিম্মি ৩০ পরিবার

বিবর্তন প্রতিবেদক
Update : সোমবার, ২২ মে, ২০২৩
গাংনীতে শতবর্ষী রাস্তা ঘিরে গাছ রোপন: জিম্মি ৩০ পরিবার
গাংনীতে শতবর্ষী রাস্তা ঘিরে গাছ রোপন: জিম্মি ৩০ পরিবার

শতবর্ষী রাস্তায় বেড়া দিয়ে গাছ রোপন করায় অন্তত ৩০টি পরিবার জিম্মি হয়ে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে ও মাঠের ফসল আনা নেওয়া করতে পারছেন না ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর লোকজন। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গ্রামের সিরাজুল ইসলাম গং সম্প্রতি রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার শহড়াতলা গ্রামে। রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া সিরাজুল ইসলামের দাবি, তিনি দলিল মূলে ওই সম্পত্তির মালিক। অন্যদিকে নজিবুর রহমান গং বলছেন জমিটি তাদের। আদালত নজিবুর রহমান গংদের পক্ষে রায় দিলেও পেশি শক্তির বলে সিরাজুল ইসলাম ও তার লোকজন রাস্তাটি বন্ধ করে গাছ রোপণ করেছে।
গ্রামের নজিবুর রহমান গং জানান, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৪৬ শতক জমি বন্দোবস্ত নেন সুরত আলী। ১৯৬২ সালে আয়নাল হকের নামের একজনের নামে ওই জমি রেকর্ডভুক্ত হয়। ১৯৮৪ সালে রেকর্ড সংশোধনী মামলা করা হয় তৎকালীন গাংনী আদালতে। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত আয়নাল হকের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে ওই রায়ের বিরুদ্ধে মেহেরপুর জজ কোর্টে আপিল করেন সুরত আলী গং। ১৯৯৩ সালে বিজ্ঞ আদালত সুরত আলির পক্ষে রায় দেন। উত্তরাধিকার সুত্রে জমির মালিক হন নজিবুর রহমান ও তার লোকজন। এদিকে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আয়নাল হক গং। বর্তমানে আদালতে মামলাটি চলমান। তবুও নানাভাবে প্রতিপক্ষ আয়নাল হক গংয়ের লোকজন সুরত আলী পক্ষের লোকজনকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নজিবুর রহমানের সাথে দ্বন্দ্বের জের ধরে তারই ভাই সিরাজুল ইসলাম আয়নাল হক গংয়ের কাছ থেকে ওই বিরোধপূর্ণ জমি ক্রয় করেন। জমি কেনার পর থেকে সিরাজুল ইসলাম গং নীরব থাকলেও হঠাৎ করে কয়েকদিন আগে নজিবুর রহমান গ্রুপের লোকজনের চলাচলের পথে বেড়া দিয়ে মেহগনি গাছ রোপন করেন। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ওই পথে চলাচল কারী অন্তত ৩০টি পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, জমি নিয়ে মামলা চলমান অথচ ৩০টি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়াটা উচিত হয়নি। এতে করে চলাচল দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। মাঠের ফসল তারা ঘরে তুলতে পারছেন না। সরকারীভাবে নির্মাণ ও সংস্কার করা শতবর্ষের পুরাতন এই রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামের লোকজনও ওই পথ দিয়ে মাঠে চলাচল করতে পারছেন না।
এদিকে সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ক্রয় সুত্রে জমির মালিক। জমির আদালতের রায় দিলেও আমাদের দখলে নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি নজিবুর গ্রুপের লোকজন জমির প্রকৃত মালিকের নামে মামলা না করে তার নামে মামলা করায় রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং গাছ রোপন করা হয়েছে। নজিবুর গ্রুপের লোকজন অনুরোধ করলে রাস্তাটি খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের গন্যমান্য কয়েকজন বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে এখন পারিবারিক দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে এর সমাধান একমাত্র তারাই করতে পারে। এ জমি নিয়ে গ্রাম ও শহর সবখানেই আলোচনা ও উভয়পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু উভয়পক্ষ সালিশ মানতে নারাজ। উভয় পক্ষই জমির মালিক নিজে বলে দাবি করায় এবং ছাড় দেওয়ার মন মানসিকতা না থাকায় সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে গ্রামের লোকজন ও অন্যান্যরা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category