নিখোঁজের একমাস পর পরকীয়া প্রেমিকার বাড়ির পরিত্যক্ত কুপ (পানির কুয়া) থেকে লাল্টু (৩৫) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম।
বুধবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে মেহেরপুরের গাংনী থানা পুলিশের একটি টিম হাড়াভাঙ্গা গ্রামে এ অভিযান চালায়।
নিহত নির্মাণ শ্রমিকের পরকিয়া প্রেমিকা সৌদি প্রবাসীর জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সাবিনা খাতুনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। লাল্টু দুই সন্তানের জনক ও হাড়াভাঙ্গা গ্রামের পাশের প্রতিবেশী গ্রাম নওদাপাড়ার ছাইনুদ্দীনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ বাড়ি থেকে হাড়াভাঙ্গা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর থেকেই লাল্টু নিখোঁজ হয়। সে সময় পরকিয়া প্রেমিকা তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
নিখোঁজ ছেলের সন্ধান চেয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর লাল্টুর মা শেফালি খাতুন গাংনী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানে পরকিয়া প্রেমিকা ছাবিনার বাড়ির সীমানার মধ্যে পরিত্যক্ত কুয়ায় মরদেহ রয়েছে বলে জানতে পারে পুলিশ। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে ছাবিনাকে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ হেজাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবদ করা হয়।
সাবিনার স্বীকারোক্তি মোতাবেক বুধবার সকাল থেকে দীর্ঘসময় চেষ্টার পর পরিত্যক্ত কুপ থেকে গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বামীর সংসার ছেড়ে বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করায় অভিমানী প্রেমিক লাল্টু গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এবং মৃত্যুর চিহ্ন মুছে দিতে তার মরদেহ পরিত্যক্ত কুপে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে সাবিনা খাতুন।
নিহত লাল্টুর ভাই পল্টু মিয়া জানান, লাল্টু একজন নির্মাণ শ্রমিক। প্রবাসীর স্ত্রী সাবিনার বাড়িতে ইটের খোয়াভাঙ্গা কাজ করার সুবাদে যাওয়া আসা। এক পর্যায়ে তারা জড়িয়ে পড়ে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্কে। গেল ১১ সেপ্টেম্বর লাল্টুর বাড়িতে গিয়ে সাবিনা খাতুন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে ১২ তারিখে নিখোঁজ হন লাল্টু।
এতে করে সাবিনার প্রতি সন্দেহ আরও প্রকট হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। নজরদারী করা হয় সাবিনার বাড়ির উপর। একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে পুলিশ সাবিনাকে গতকাল মঙ্গলবার হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে মরদেহ পরিত্যক্ত কুপে রয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয় সাবিনা। বুধবার দুপুর থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কমীর্রা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে গলিত মরদেহ ও হাড়গোড় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার্ (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, থানায় জিডির পর থেকে পুলিশ বিভিন্ন ভাবে খোঁজ খবর নিতে থাকে। এক পর্যায়ে নিশ্চিত হয়ে পরকীয় প্রেমিকা সাবিনা খাতুনকে হেফাজতে নেয়া হয়। তারই স্বীকারোক্তি মোতাবেক মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবতীর্ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।