আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা ও দল থেকে বহিস্কারের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদককে রাস্তা থেকে তুলে বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করেছেন তিনি। নানা ঘটনায় বিতর্কিত সদর উদ্দিন খানকে নিয়ে আতংকিত দলটির শত শত নেতাকর্মী বিচার দাবীতে ফুসেঁ উঠেছে।
সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে খোকসার শমসপুর বাজারের পাশের রাস্তা থেকে কয়েক জন মিলে থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে জোর করে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।
আলমগীরের অভিযোগ জোর করে তাকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের শমসপুরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ঘন্টাব্যাপি অমানবিক নিরযাতন চালায় সদর খান ও তার ক্যাডাররা। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভে ফুসেঁ ওঠে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার বেলা ১১টায় খোকসা বাসস্টান্ডে সদর উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাসহ দল থেকে বহিস্কারের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন নেতাকর্মীরা। এসময় তারা বিতর্কিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানকে দল থেকে বহিস্কারসহ দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন ।
বৃহস্পতিবার বিকেলেই নির্যাতনের শিকার হওয়া আলমগীরের ছেলে সজিব হোসেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানকে প্রধান আসামী করে কয়েকজনের নামে থানায় অভিযোগ জমা দিলেও এখনো মামলা হয়নি তার। আলমগীর হোসেনের দাবী, সদর খানের নাম বাদ দিয়ে এজাহার জমা দিতে বলেছে পুলিশ। আর এ ঘটনায় দ্রুত আইনগতসহ দলীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচীর ঘোষনা দেন আওয়ামীলীগ নেতারা।
এ বিষয়ে পুলিশ বলছে, অভিযোগের তদন্ত চলছে, কোন আসামী বাদ দেওয়া বা যোগ করার ব্যাপার নেই। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্ঠতা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধেই নেওয়া হবে মামলা। জেলার শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগে জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।