কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিবি করিমুন্নেছার অপসারণের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশ থেকে ইউএনওর বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের কাজে উদাসীনতা ও আওয়ামী লীগর পুনর্বাসন করার মতো বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। দাবি না মানলে আগামী রবিবার ইউএনওকে নিজ কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘মিরপুরের সর্বস্তরের জনতা’র ব্যানারে শহরের ঈগল চত্বর থেকে ঝাড়ু মিছিল বের হয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। ঝাড়ু মিছিলে অংশ নেন এলাকার নারী-পুরুষ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন মিরপুর পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক, ধুবাইল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি যাহার হাজী, মিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ আহবায়ক ফরিদ ইসলাম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিমু।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইউএনও বিবি করিমুন্নেছা মিরপুরে যোগদানের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের পদধারীদের নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মিটিং করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন।
তাকে মিরপুর থেকে বদলি করা হয়েছে। তবুও এখন পর্যন্ত তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। বক্তারা জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আজকের মধ্যে ইউএনওকে মিরপুর থেকে অপসারণ না করলে আগামী রবিবার তালাবদ্ধ করে রাখার ঘোষণা দেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে বিবি করিমুন্নেছাকে পদায়নের মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে। তাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে। সেখানে তিনি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে ইউএনও বিবি করিমুন্নেছার বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদের দুইটি প্রবেশদ্বার বন্ধ রাখার অভিযোগ ওঠে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিরা ভোগান্তিতে পড়ে।
এছাড়া নিজ ক্ষমতায় উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ বন্ধ ও আওয়ামী লীগ পদধারী চেয়ারম্যানদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভা করায় আলোচনায় আসেন তিনি।
এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান ও ইউএনও বিবি করিমুন্নেছার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।