• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হওয়ায় মেহেরপুর বিজেপির শুভেচ্ছা মেহেরপুরে বেকারি ও বিরানি কারখানায় যৌথ অভিযানে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা মেহেরপুরে যাবজ্জীবন কারাদন্ড রায় শুনে জ্ঞান হারালেন ধর্ষণ মামলার আসামী গাংনীতে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মেহেরপুর জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটিকে মাসুদ অরুণের অভিনন্দন মেহেরপুরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু

কুষ্টিয়ায় আ.লীগ কার্যালয় ট্রাফিক পুলিশ অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর-আগ্নীসংযোগ, সংবাদকর্মীসহ আহত অর্ধশতাধিক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
Update : রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০২৪
কুষ্টিয়ায় আ.লীগ কার্যালয় ট্রাফিক পুলিশ অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর-আগ্নীসংযোগ, সংবাদকর্মীসহ আহত অর্ধশতাধিক
কুষ্টিয়ায় আ.লীগ কার্যালয় ট্রাফিক পুলিশ অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর-আগ্নীসংযোগ, সংবাদকর্মীসহ আহত অর্ধশতাধিক

কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের ব্যানারে হাজার হাজার মানুষ কুষ্টিয়া শহরে তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা ট্রাফিক পুলিশ অফিস, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বঙ্গবন্ধুর ম‍্যুরাল, জেলা পরিষদ ভবনসহ বেশ কিছু স্থাপনায় হামলা ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দফায় দফায়, টিয়ারশেল ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে এ সময় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের কোন নেতাকর্মীদের রাস্তায় দেখা যায়নি। এসব ঘটনায় তিনজন সংবাদকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ আন্দোলনকারী ও পথচারীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

রবিবার বেলা এগারোটা থেকে প্রায় দেড়টা পর্যন্ত কার্যত কুষ্টিয়া শহরের একটি বড় অংশ আন্দোলনকারীদের দখলে ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বেলা সাড়ে দশটার পর থেকে শহরের মজমপুর বাস ডিপো মসজিদের সামনে জড়ো হতে শুরু করে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। তবে এ মিছিলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একেবারে কম ছিল জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পরে বেলা ১১টার দিকে তারা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। এ সময় রাস্তার দুপাশ থেকে শত শত মানুষ লাঠি সোঁটা সাথে নিয়ে মিছিলে যোগ দেন। পরে চৌড়হাস মোড়ে গিয়ে তারা মহাসড়কের উপর অবস্থান নেন।

এ সময় আন্দোলনকারীদের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ১০-১২ জন পুলিশ সদস্যের উপর হামলা চালায় আন্দোলনকারীরা। সেখানে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তারা আবার মিছিল নিয়ে মজমপুর গেটের দিকে রওনা হয়। মিছিলটি ফুলতলা মোড় অতিক্রম করার সময় রাস্তা থেকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীরা। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তবে পুলিশ সে সময়ও কোন অ্যাকশনে যায়নি।

পরে রাইফেল ক্লাবের পাশে ছাত্রলীগ কার্যালয় ভেঙে গুঁড়িয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। এরপর সাদ্দাম বাজার মোড়ে এসে আন্দোলনকারীরা কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাঞ্জারুল ইসলাম চঞ্চল এবং সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব বাদশার ব্যক্তিগত অফিসের হামলা, ভাংচুর এবং আগুন দেয়।

এরপর মিছিলকারীরা একে একে মজমপুর গেটে জেলা ট্রাফিক পুলিশের আগুন দেয়, ভাঙচুর চালায় পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ম‍্যুরালে। পরে বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের অফিসে ব্যাপক ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা।

এছাড়া তারা কুষ্টিয়া মডেল থানা ও জেলা পরিষদের নবনির্মিত ভবনে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেন। হামলার সময় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা শান্তি সমাবেশ করছিলেন। তবে আন্দোলনকারীদের হামলার মুখে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। এছাড়া বড়বাজার রেলগেটের কাছে পুলিশ বক্স জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা।এসময় আন্দোলনকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে লাগানো সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে।

বেলা দুটোর পর আন্দোলনকারীরা পুনরায় মজমপুর বাস ডিপো মসজিদের সামনে জড়ো হয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে এসময় পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এসময় চ্যানেল ২৪ এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি শরীফ বিশ্বাস, ক্যামেরা পার্সন এস আই সুমন এবং একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিনিধি শাহিন আলী ছররা গুলিতে আহত হন। এছাড়া পুলিশ ও আন্দোলনকারীসহ অর্ধ শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছিল। এতে পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শহরের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন পুলিশ যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। এমনকি পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপের পরও তারা নিশ্চুপ ছিল। তবে আন্দোলনকারীরা শহরের পুলিশের স্থাপনাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর ও আগুন দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category