• বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন

সিগারেটে এমআরপি বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব ফাঁকি কমবে- মতবিনিময় সভায় বক্তারা

বিবর্তন ডেস্ক
Update : শনিবার, ২৯ জুন, ২০২৪
সিগারেটে এমআরপি বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব ফাঁকি কমবে- মতবিনিময় সভায় বক্তারা
সিগারেটে এমআরপি বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব ফাঁকি কমবে- মতবিনিময় সভায় বক্তারা

তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে সব সবচেয়ে বড় বাধা তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ। তামাক কোম্পানি যেহেতু এমআরপির চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে, সেহেতু তারা দাম বৃদ্ধির বিরোধিতা করে। কিন্তু সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সে পথ বন্ধ করা হলে তামাক কোম্পানিই মূল্য বৃদ্ধির কথা বলবে। বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন বন্ধ করা হলে তাদের ব্যবসা বৃদ্ধির আগ্রাসী আচরণ, অবৈধ হস্তক্ষেপ, আইন লংঘন ইত্যাদি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে রাজস্ব ফাঁকি কমবে ও সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

শনিবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের কলা ভবনে বিইআর এর কনফারেন্স রুমে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) যৌথভাবে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কর নীতি’শীর্ষক এ মতবিনিময় সভা আয়োজন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাসুদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিইআরের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ড. রুমানা হক। এসময় ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের সিনিয়র কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) সমন্বয়কারী সাইফুদ্দীন আহমেদ, একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষেজ্ঞ সুশান্ত সিনহা প্রমূখ।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, এবারের বাজেট প্রস্তাবে সিগারেটের চারটি স্তরেই মূল্য ও করহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। সিগারেট ও বিড়ির কাগজের ওপর আমদানি শুল্ক ৭.৫% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করা হয়েছে। মূল্য কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ না বাড়লেও মধ্যম, উচ্চ ও অতি-উচ্চ স্তরে সিগারেটের কর হার বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। একই সাথে সকল সিগারেটের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যে, প্রতি শলাকায় খুচরা পয়সার ঝামেলা মুক্ত হয়েছে। যা অত্যন্ত ইতিবাচক। কারণ একক শলাকার মূল্যে খুচরা পয়সা থাকলে বিক্রেতারা খুচরা অংশটুকু বাড়িয়ে নিয়ে পূর্ণ টাকায় বিক্রি করে। এতে তামাক ব্যবসায়িদের মুনাফা বৃদ্ধি পায়।

তারা আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে এবারের বাজেটে আরো কিছু ইতিবাচক প্রস্তাব রয়েছে। মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর বিবেচনায় কার্বনেটেড বেভারেজের সম্পুরক শুল্ক, সুইটেনড বেভারেজের টার্নওভার কর, উৎপাদিত জুসের মূল্য সংযোজন কর এবং আইসক্রিমের কর হার বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই বৃদ্ধি চর্চার পেছনের চিন্তাটি সুন্দর আগামির ইঙ্গিত দেয়।

সভায় সকল তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য যৌক্তিক পরিমাণ বৃদ্ধি; নিম্ন স্তরে সম্পুরক শুল্কের পরিমাণ ৬৩% নির্ধারণ; সিগারেটের স্তরসমূহ কমিয়ে একটিতে আনা; তামাকজাত দ্রব্যে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতির প্রচলন; কর প্রশাসনকে আরো শক্তিশালি ও দক্ষ করে তোলা; তামাক কোম্পানি থেকে সরকাররে অংশীদারিত্ব প্রত্যাহার ও শক্তিশালি তামাক কর নীতি গ্রহণসহ ১৩ টি সুপারিশ পেষ করেন আয়োজকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category