• সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
দৌলতপুরে ৪ দিন ধরে নিখোঁজ ৩ সন্তানের জননী টগরী আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হওয়ায় মেহেরপুর বিজেপির শুভেচ্ছা মেহেরপুরে বেকারি ও বিরানি কারখানায় যৌথ অভিযানে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা মেহেরপুরে যাবজ্জীবন কারাদন্ড রায় শুনে জ্ঞান হারালেন ধর্ষণ মামলার আসামী গাংনীতে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মেহেরপুর জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটিকে মাসুদ অরুণের অভিনন্দন

পাখির জন্য পানির ব্যবস্থা করছেন রংমিস্ত্রি জহির

বিবর্তন প্রতিবেদক
Update : মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৪
পাখির জন্য পানির ব্যবস্থা করছেন রংমিস্ত্রি জহির
পাখির জন্য পানির ব্যবস্থা করছেন রংমিস্ত্রি জহির

দূর থেকেই চোখে পড়ে গাছে ঝোলানো লাল রঙের প্লাস্টিকের পাত্র। কাছে গিয়ে দেখা যায়, তাতে লেখা, ‘পাখির জন্য পানি’। প্রচণ্ড দাবদাহে পা‍খির জন্য এই পানি পানের ব্যবস্থা করা হয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রামনগর গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দা জহির রায়হান (৫০) এ উদ্যোগ নিয়েছেন।

জহির রায়হান গত রোববার থেকে পাখির জন্য পানির পাত্রের ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিদিন গড়ে গাছে ২০টি করে পানির পাত্র বাঁধছেন। যখন যে এলাকায় কাজে যান, সেখানে এই পাত্র বেঁধে দেন। এ পর্যন্ত ৮০টি পানির পাত্রের ব্যবস্থা করেছেন। এর মধ্যে রামনগর গ্রামে ২০টি, কালুহাটি গ্রামে ২০টি, ডেফলবাড়িতে ১০টি, চণ্ডীপুরে ১০টি ও ঝিনাইদহ শহরে ২০টি।

জহির রায়হানের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে। বাবা মারা গেছেন। ছয় ভাইয়ের মধ্যে জহির ছোট। স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে জহির রায়হানের সংসার। তিনি রংমিস্ত্রির কাজ করেন, স্ত্রী শাহনাজ খাতুন বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করেন।

জহির রায়হান বলেন, এই বছরে তীব্র গরম। পাশাপাশি পানির সংকট চলছে। মাঠে-খালে-বিলে কোথাও পানি নেই। পাখিরাও পানির জন্য কষ্ট পাচ্ছে। তাই তিনি পাখিদের জন্য পানির ব্যবস্থা করছেন। গত রোববার থেকে গাছে গাছে পানির পাতিল বাঁধতে শুরু করেছেন। একটি পাতিল বাঁধতে ২০ টাকা খরচ হচ্ছে। পোলট্রি মুরগির খাবার দেওয়া হয় যে পাত্রে, সেটাই তিনি পানির পাত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। খরচ কমাতে পুরাতন পানির বোতল কেটে গাছে ঝুলিয়ে দেবেন। খাল, বিল, নদী–নালায় পানি না জমা পর্যন্ত তিনি এই কাজ করবেন। সংসারে আর্থিক অনটনের কারণে পড়ালেখা করতে পারেননি জহির। ছোট থেকেই তিনি গরুর রাখালের কাজ করতেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়েও তেমন যাননি। পরে কিছুদিন নৈশ বিদ্যালয়ে পড়েছেন। তবে ছোটবেলা থেকেই মানুষের উপকার করা তাঁর নেশা। রাস্তার পাশে গাছ লাগান। মানুষের বিশ্রামের জন্য রাস্তার মোড়ে বেঞ্চ তৈরি করে দিয়েছেন। পানি পানের জন্য নলকূপও স্থাপন করেছেন। দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও তিনি সহায়তা করেন। এবার তিনি দাবদাহে পাখির জন্য পানির ব্যবস্থা করেছেন। এ বিষয়ে কুমড়াবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম জানান, জহির রায়হানের এই উদ্যোগ খুবই ভালো। পাখির উপকার হচ্ছে। পানির পাতিল বেঁধে দেওয়ার পর এখন গাছে গাছে পাখি দেখা যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category