চিকিৎসক সংকট আর ওষুধের অপ্রতুলতায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দীর্ঘদিন ধরে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। বার বার জনবল চেয়ে চিঠি চালাচালি করা হলেও চিকিৎসক পদায়ন করা বা ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি বলে দাবী করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। আবার যারা কর্মরত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও একটি পক্ষ নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে তাদের সুনাম ক্ষুন্ন করছেন। ফলে অনেকেই আর এখানে চাকরী করতে চাচ্ছেন না।
ডাক্তার সংকটের কারনে যেখানে গুটি কয়েক ডাক্তার দিন রাত বিরতিহীনভাবে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন; সেখানে তাদের পাশে সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে উল্টে অপপ্রচার চালিয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। যা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার উপর আরও বিরুপ প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন কর্তৃপক্ষ।
প্রাপ্ত তথ্যামতে, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সে অনুযায়ি চিকিৎসক পদায়ন করা হয়নি। ১৭ জন চিকিৎসকের স্থলে মাত্র ৫ জন চিকিৎসক সেবা প্রদান আসছেন। কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। ইমারজেন্সি চিকিসকের পদটি শুন্য রয়েছে সেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে। এতে বিশাল জনগষ্ঠির সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত ৫ জন চিকিৎসক। এদের বিরুদ্ধেও আবার অনেকেই ব্যাক্তিগত স্বার্থ হাসিলে কিছুসংখ্যক লোক নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও চিকিৎসকদের অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসকরা এলাকা ছাড়তে চাচ্ছেন।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিনি নিজ এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষ্য অদ্যবধি গাংনী হাসপাতালেই কর্মরত আছেন। বর্তমানে যে সকল চিকিৎসক আছে তারা সকলেই প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর সেবা দিচ্ছেন। ডাক্তার সংকট থাকায় একাধারে ২৪ ঘন্টা, কোন কোন সময় তারও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে পড়ে থাকেন এসকল ডাক্তার।
চিকিৎসকদের অভিযোগ, কতিপয় ব্যক্তি দু-একজন ডাক্তারকে পছন্দ করেন না। তারা নানা প্রকার মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার সময় তিনি যদি কোন টেস্ট দিয়ে থাকেন তাহলে তো আর রক্ষা নেই।
নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে টেস্ট করাতে বাধ্য করানো হচ্ছে এমন ভূয়া অভিযোগ তুলে তার সম্মানহানীও করা হচ্ছে মাঝেমধ্যে। যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সচেতন মহলসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে মিশ্র পতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জনগুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালটির সার্বিক অনুকুল পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের ব্যাক্তিগত কারনে এমন অভিযোগ থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তার পরও পিছু ছাড়ছেন না ওই সব লোকজন। বিশেষ করে কিছু ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজন ডাক্তারদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছেন।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ-আল-আজিজ বলেন, কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলে আমাদের কাছে অভিযোগ দিবে এটাই নিয়ম। আমরা তার তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, যারা এগুলো করছে তারা অভিযোগ না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক। অনেক সময় দেখা যায় রোগীরা বিভিন্ন অভিযোগ করে। কিন্তু তদন্ত করার সময় অভিযোগকারীদের কাউকে পাওয়া যায়নি।