মেহেরপুর সদর উপজেলার টেংরামারি গ্রামে রাজন আলী নামের এক ব্যক্তির ফসলি জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার উঠেছে একই এলাকার মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে হাশেম আলী ও হোচেন আলী, হাশেম আলীর ছেলে রনি ও হোচেন আলীর ছেলে শুকুর আলীর বিরুদ্ধে। রাজন আলী একই এলাকার রজব আলীর ছেলে।
এঘটনায় ২১/১০/২৪ তারিখে মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০২৩ সালের ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ৪(২)/৮/১৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন রাজন আলী। যার পিটিশন মামলা নং-৫০৮/২০২৪।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, রাজন আলীর দাদা সেকেন্দার আলীর নামে ভবানন্দপুর মৌজার আরএস ১৯৪৭ খতিয়ানে ১.৬৫ একর জমি প্রচলিত আছে। দাদা সেকেন্দার আলীর গত ০৩/০১/১৯৮১ সালে হাল ৩৮৩৭ দাগের ১.১৬ শতক জমি দানপত্র দলিলমূলে রাজনকে হস্তান্তর করে। রাজনের বাবা রজব আলী গত ১২/০৬/২০০৭ সালে ৫৭৩৮ নম্বর দলিলমূলে লিটন মিয়া ও গোলাম পঞ্জাতনের কাছ থেকে ০.২৬৪০ একর জমি ক্রয় করে। পরে সেকেন্দার আলী দলিলের সংশোধনী ৬৫১/৯৬ নং দলিল করে দেয়। রাজন ও তার বাবা রজব আলী জমির নাম খারিজসহ বছর বছর খাজনা প্রদান করছে এবং প্রায় ৪৫ বছর ধরে জমি ভোগদখলে আছে। বর্তমানে ওই জমিতে নেপিয়ার ঘাস ও গ্যামা লাগানো আছে এবং আংশিক জমি পেঁয়াজ চাষের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। হঠাৎ করেই গত ২০/১০/২৪ তারিখে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এসময় তাদের বাঁধা দিতে গেলে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।
এবিষয়ে জানতে হোচেন আলীর ছেলে শুকুর আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জমিটা আমরা দখল করে নিয়েছি। জমিটি ১৯৬৫ সালে আমার দাদীকে বিক্রি কবলায় রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছে। পরে ১৯৮১ সালে জমিটি আমার দাদার রেকর্ড হিসেবে ফেরত গিয়েছে।
পরে ৮৪-৮৫ সালের দিকে ওই জমি জাল করে ওর নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। তারা জমির খাজনাও করে ফেলেছে। জমি নিয়ে মামলা চলমান কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি না হতেই জমি কিভাবে দখলে নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, মামলা যখন হয়েছে নিষ্পত্তি তো হবেই। জমি আমরা আগে দখলে নিইনি। দুজনের কাগজ দেখে উকিলের সাথে মতবিনিময় করে তারপর জমি দখল করেছি।