মেহেরপুর সদর উপজেলার পুরাতন দরবেশপুর গ্রামে বাবার বাড়ি বেড়াতে এসে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে প্রীতি লতা (২১) নামের এক গৃহবধূ।
শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। প্রীতি লতা সে পুরাতন দরবেশপুর গ্রামে আকরামুল হকের একমাত্র মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায় প্রীতিলতা বর্তমানে মেহেরপুরের তাহের ক্লিনিকে সেবিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে থাকাকালীন সময়ে মেহেরপুর সদরের গভীরপুর গ্রামে হাফিজুল ইসলামের ছেলে ওসমানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ওসমান পেশায় একজন পানির লাইনের মিস্ত্রি। উভয় পরিবারের অমতে বছরখানেক আগে তাদের বিয়ে হয়।
শশুর বাড়ির লোকজন প্রীতি লতাকে মেনে নিতে না পারায় বিভিন্ন সময়ে তার উপর মানসিক নির্যাতন করতো। বিয়ের পর থেকে প্রীতিলতা ৪-৫ বার শ্বশুর বাড়ি গিয়েছে। বেশিরভাগ সময়ে সে বাবার বাড়ি থাকতো সর্বশেষ আড়াই মাস আগে সে শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে আসে।
ঘটনার দিন সকালে স্বামীর সাথে কলহের কারণে সে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছেন পরিবারের লোকজন। পরিবারের লোকজন আরও জানায়, প্রীতিলতা সবার অজান্তে ঘরে ঢুকে সিটকানি লাগিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পাই।
আত্মহত্যার খবর পেয়ে এএসপি সার্কেল ও বারাদি পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে নামিয়ে মেহেরপুর সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় রাতে বাদ এশা গ্রাম্য কবরস্থানে দাফন করা হয়।