• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
গাংনীতে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মেহেরপুর জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটিকে মাসুদ অরুণের অভিনন্দন মেহেরপুরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাবে রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয় শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীতে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল উদ্ধার

মায়ের কাছে অপহরণ নাটক সাজিয়ে মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে ধরা

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : বুধবার, ৩ জুলাই, ২০২৪
মায়ের কাছে অপহরণ নাটক সাজিয়ে মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে ধরা
মায়ের কাছে অপহরণ নাটক সাজিয়ে মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে ধরা

বেশ কিছুদিন বিভিন্ন মুভি ও সিরিয়াল দেখে অপহরণ করার প্র্যাকট্রিস চলতো। কয়েকদিন পরেই দুই বন্ধু হাবিব ও পলাশ নেমে পড়েন কাজে। নিজেদের পরিবার থেকেই মুক্তিপণ আদায়ের জন্যই এক বন্ধু অপর বন্ধুকে অপহরনের নাটক সাজিয়ে মুক্তিপণ পরিশোধের আকুতি জানানো কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ তার মায়ের কাছে পাঠানো হয়। পরিবারের লোকজন মুক্তিপণ পরিশোধের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন।

তবে পুলিশের চৌকস তদন্তে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। এমনই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে মেহেরপুরের গাংনীর বামন্দীতে। পলাশ গাংনী উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে ও হাবিব একই গ্রামের মৃত মাসুমের ছেলে। পুলিশ ওই দুই বন্ধুকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।

জানা গেছে, বামন্দী বাজারে পলাশের ওয়েল্ডিং কারখানায় কাজ করতেন তারই বন্ধু আহসান হাবীব। পলাশের নিজের দোকান থাকলেও হাবিবের ছিল না। পিতৃহারা হাবীব মায়ের কাছে ব্যবসার জন্য টাকা চাইলেও মায়ের সামর্থ্য ছিল না। মায়ের কাছ থেকে টাকা নিতে দুই বন্ধু মিলে একটি অপহরণের নাটক করে। পলাশের ওয়েল্ডিং দোকানে বসে টিকটক, মুভি আর সিনেমা দেখে রপ্ত করে অপহরণ নাটকের । সে অনুযায়ি গেল সোমবার সন্ধ্যায় পলাশ তার বন্ধু হাবিবের মায়ের কাছে খবর দেয় হাবিব অপহরণ হয়েছে। তাকে মুক্ত করতে হলে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। সাজানো নাটকের অংশ হিসেবে হাবীবকে কাপড় দিয়ে বেঁধে টাকা দেওয়ার আকুতি জানানো ভিডিও পাঠানো হয় মাসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের কাছে। যা দেখে প্রকৃত অপহরণ মনে করে দিশেহারা হয়ে পড়েন হাবীবের মাসহ আত্মীয়স্বজন। অপহরনের বিষয়টি জানানো হয় পুলিশকে।

গাংনী থানা পুলিশের ওসির নের্তৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টীম শুরু করেন তদন্ত। ভিডিও বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পলাশ ও হাবিবের অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে বামন্দী বাজারের একটি ঘর থেকে দু’জনকে আটক করা হয়। ব্যবসার টাকার জন্য মায়ের সাথে এই নাটক বলে স্বীকার করে তারা। আটক পলাশ ও হাবিবকে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গাংনী থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, তথ্য প্রযুক্তি ছাড়াও ভিডিও বিশ্লেষণে অপহরণ নাটক বোঝা যায়। পরে দুই বন্ধুর মোবাইল ফোন ট্রাকিং করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়েই অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা সব সত্যি স্বীকার করে। পরিবারের অসচেতনতা এবং তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারে যুব সমাজ বিপথে যাওয়ার চিত্রই ফুটে উঠেছে এই অপহরণ নাটকের মধ্যে। এমনটিই মনে করছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মোবাইল প্রযুক্তির অপব্যবহার আর সমাজ বিগড়ে যাওয়ার মত কন্টেন্ট দেখে বেকার যুবকদের মাধ্যে আরও হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে কখনও হচ্ছে অপহরণের নাটক আবার কখনও ঘটছে প্রকৃত অপহরণের মত ঘটনা। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র ফুটে উঠছে বলে মনে করছেন সচেত মহল। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারিবারিক সচেতনতা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরী বলেও মনে করছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category