আমদানির অনুমতি পাওয়ার প্রথম দিন বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মোট ৮৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করেছে। সোমবার (৫ জুন) রাতে পেঁয়াজের চালান নিয়ে ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। বেনাপোল স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সুব্রত চক্রবর্তী এবং ভোমরা শুল্ক স্টেশনের তথ্য কর্মকর্তা শান্ত হাওলাদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানাগেছে, বেনাপোল বন্দরে রয়েল এন্টারপ্রাইজ নামক একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমদানিকারকের পক্ষে ৭৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজের ছাড়পত্রের আবেদন করে। সন্ধ্যার পরে বন্দর থেকে পেঁয়াজ নিয়ে তিনটি ট্রাক ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল বলেন, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বেনাপোল দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। কৃষি মন্ত্রণালয় সোমবার থেকে পেয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে বন্দর থেকে দ্রুত পেঁয়াজ খালাস নিতে পারেন সে জন্য বলা হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি অনুমোদন শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এদিন ২১০টি আইপি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। এতে আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনে ২ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার।
অপরদিকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ১১ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সোমবার (৫জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পেঁয়াজ ভর্তি একটি ট্রাক ভোমরা স্থলবন্দরে প্রবেশ করে বলে জানিয়েছেন ভোমরা শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তারা।
ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ খাঁন জানান, প্রতি টন পেঁয়াজ ২২০ মার্কিন ডলার থেকে ২৫০ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হচ্ছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের তথ্য কর্মকর্তা শান্ত হাওলাদার জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ১১ ট্রাক পেঁয়াজ ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছে। আরো ৮/১০টি ট্রাক ঢুকতে পারে। প্রতি ট্রাকে ১৮ থেকে ২০ টন পেঁয়াজ রয়েছে।
উল্লেখ্য: গত ২১ মে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিলেন, ‘পেঁয়াজের বাজার নিয়ে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তাতে আমদানি ছাড়া কোনো উপায় নেই। বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন পর্যাপ্ত হয়েছে। কিন্তু বেশি মুনাফা লাভের আশায় অনেকে পেঁয়াজ মজুত রেখে সংকট তৈরি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করছে। আমদানির পর বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা করছি।’