দেশের জগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার যেখানে তামাক নিয়ন্ত্রণে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানের প্রমাণ রেখে চলেছে ঠিক সেখানে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা) নতুন নেশা পণ্য নিকোটিন পাউচ তৈরির কারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রদান করেছে।
যা দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন করে স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করছে। নিকোটিন পাউচ তৈরির নতুন এই কারখানা স্থাপনের অনুমতি সংবিধান, আপীল বিভাগের রায় এবং সরকারের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট অবিলম্বে এ ধরণের জনস্বাস্থ্য বিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছে।
ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) এর আর্টিকেল ৫.৩ প্রতিপালনে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে নৈতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। তামাকের বহুমাত্রিক ক্ষতি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের ৩৫টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সব নীতিতে স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেয়ার প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।
এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি এর নিকোটিন পাউচ তৈরির কারখানা স্থাপনে অনুমোদন, দেশের তরুণ তথা আগামী প্রজন্মের স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। যে দায় সরকার কোনভাবেই এড়াতে পারবে না। নিকোটিন পাউচ মূলত তরুণ প্রজন্মের জন্য আসক্তি তৈরির নতুন এক বানিজ্যিক কৌশল। যার মাধ্যমে তামাক কোম্পানি ধূমপান ত্যাগের মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে প্রকৃত স্বাস্থ্যক্ষতির বিষয়টি আড়াল করে তরুণ প্রজন্মকে দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তা তৈরি করতে চায়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে, বেলজিয়াম, রাশিয়া, উজবেকিস্তান, ফ্রান্সসহ বিশ্বের ৩৪টি দেশ ইতোমধ্যে এই নিকোটিন পাউচ বিক্রি নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, জনস্বাস্থ্য বিরোধী নিকোটিন পাউচ তৈরির কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, সকল সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য WHO FCTC Article 5.3 অনুযায়ী আচরণবিধি প্রণয়ন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি শক্তিশালী করার আহবান জানায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট।