• শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
গাংনীতে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মেহেরপুর জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটিকে মাসুদ অরুণের অভিনন্দন মেহেরপুরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাবে রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয় শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীতে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল উদ্ধার

গাংনীতে অনলাইন জুয়ার অর্থে দুই দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, এলাকাজুড়ে বিতর্ক

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
গাংনীতে অনলাইন জুয়ার অর্থে দুই দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, এলাকাজুড়ে বিতর্ক
গাংনীতে অনলাইন জুয়ার অর্থে দুই দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, এলাকাজুড়ে বিতর্ক

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামে মরহুম কিয়ামদ্দিন আলীর ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুইদিন ব্যাপী আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক।

মাহফিলের আয়োজক ও সভাপতিত্বে মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের নাম উল্লখ থাকলেও মাহফিলে অনুপস্থিত। তিনি অনলাইন জুয়াড়ি হিসেবে জেলাব্যাপী পরিচিত।তার বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকায় অনুষ্ঠানের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

জানাগেছে, গত কয়েক বছরে যার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ মামলা ও সাংবাদ শিরোনাম ছিল মেহেরপুরের শীর্ষ অনলাইন জোয়ার এজেন্ট আনোয়ার হোসেন। সেই ব্যাক্তিই হঠাৎ হয়ে গেছেন এলাকার দানবীর। বাবার মৃত্যু বার্ষিকীতে করছেন বিশাল এক ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন।
তবে ইসলামী বক্তাদের দাবি ইসলামে দিবস পালন করা বৈধ না। এরা হয়তো অবৈধ কালো টাকা সাদা করতেই এই আয়োজন করছে। মাহফিলের বক্তারা হয়তোবা জানে না যে অনলাইন জুয়ার টাকায় মাহফিল হচ্ছে, জানলে হয়তো তারা আসতো না।

স্থানীয় এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, আনোয়ার হোসেন মেহেরপুর জেলায় অনলাইন জুয়ার শীর্ষ এজেন্টদের একজন হিসেবে পরিচিত। সেই অর্থেই কি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে বিপুল ব্যয়ে এই আয়োজন এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। তাদের ভাষায় যে টাকার সঙ্গে জুয়া, তরুণদের সর্বনাশ আর পারিবারিক ধ্বংস জড়িয়ে, সেই টাকায় দানের নামে ইবাদত কি গ্রহণযোগ্য হতে পারে!।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন বলেন, ৫-৭ বছর আগেও আনোয়ার হোসেন পারিবারিকভাবেও স্বচ্ছল ছিলেন না, সেই আজ বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বেশ কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন ও প্রচার-প্রচারণা চলছে তাই স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ দানা বাঁধছে। অনেকেই এটিকে কালো টাকা সাদা করার অপচেষ্টা বলেও মনে করছেন। গতবছর একই আয়োজন একদিনের জন্য করেছিলো। কিন্তু তার আগে কখনো মৃত কিয়ামদ্দীনের মৃত্যুবার্ষিকী আয়োজন চোখে পড়েনি।

জানা গেছে, আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা রয়েছে এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্তও চলমান। সম্প্রতি সিআইডি মেহেরপুর জেলায় অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ১৯ জনের বিরুদ্ধে যে তদন্ত শুরু করেছে, সেই তালিকায় আনোয়ার হোসেনের নামও রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ আয়োজন কীভাবে হলো—তা নিয়েও প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অনলাইন জুয়াড়ি হিসেবে চিহ্নত ব্যাক্তব প্রকাশ্যে এভাবে ধর্মীয় মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।

নাগরিক সমাজ উদ্বেগ জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মেহেরপুর জেলা কমিটির সভাপতি সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, “অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে উঠতি বয়সী যুবকরা নিঃস্ব হচ্ছে, এটা সমাজের জন্য মারাত্মক ভয়াবহ দিক। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসবের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতায় কাজ করছি। অনলাইন জুয়ার অর্থে ধর্মীয় আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,
“রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিকভাবে যদি অনলাইন জুয়াড়িদের মূল উৎপাটন না করা যায়, তাহলে এ ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে। ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে মানুষকে বিপথগামী করা মোটেও কাম্য নয়। এসব আয়োজন অনেক সময় সমাজে প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশল মাত্র।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন,“মাহফিল আয়োজনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগে। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির জানান, “মাহফিল আয়োজনের জন্য তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। তিনি ইতিবাচক মত দিয়েছেন। অনুমতি এখনো পেন্ডিং রয়েছে—তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে তারা অনুমতি পাবে। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্মীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়ায় গাংনী উপজেলা ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন বলেন, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো দিবস পালন করা নিষিদ্ধ। অবৈধ টাকায় ধর্মীয় বৈধতা পাওয়া যায় না। যদি কেউ জেনে-বুঝে অনলাইন জুয়ার টাকায় আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে অংশ নেন, সেটি ইসলামসম্মত হতে পারে না। বক্তারা যদি জানতেন, তাহলে অনেকেই হয়তো এখানে আসতেন না।”

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য: ২০২৫ সালে একদিনব্যাপী এই আয়োজন করা হয়েছিলো।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category