১৬ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে গাংনী পৌর সুপার মার্কেট। এ নির্মাণ কাজ বাঁধাগ্রস্ত করতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন গাংনী পৌরকর্তৃপক্ষ।
এ কাজের প্রমান মিলেছে গাংনী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রের একমাত্র সাপ্তাহিক হাট ফুটবল মাঠে স্থানান্তরে বাঁধা দেওয়ার মধ্য দিয়ে। এলাকার স্বার্থে ফুটবল মাঠ সংস্কারে পৌর কর্তৃপক্ষের অবদান থাকলেও গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান ঠিক উল্টো। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, হাটটি অন্য কোথাও স্থানান্তর না করা পর্যন্ত সুপার মার্কেট নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পৌর কর্তৃক্ষ জানায়, স্থানীয় ব্যবসায়িদের স্বাচ্ছন্দে যাতে ব্যবসা করতে পারে সেজন্য পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণের প্রকল্প হতে নেওয়া হয়। ব্যায় ধরা হয় ১৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। কাজের মেয়াদ কাল প্রায় দুই বছর। এ সময়ে ব্যবসায়ীদের জন্য অস্থায়ী স্থান নির্ধারণ করা হয়। তহবাজারটিতে স্থানীয় কাচা বাজারে স্থানান্তর করা হয়। সাপ্তাহিক হাটটির জন্য ফুটবল মাঠে বসানোর জন্য এলাকাতে মাইকিং করা হয়। আজ মঙ্গলবার থেকে হাট বসানোর কথা ছিল। এরই মধ্যে বাঁধা হয়ে দাড়ায় গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও গাংনী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মোশারফ হোসেন ও যুবলীগ সম্পাদক গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের প্রভাষক শফি কামাল পলাশ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এতে হাটটি না বসানোর দাবী জানানো হয়। এখানে জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করা হয়নি।
একটি সুত্র বলছে, পৌর মেয়র আহম্মেদ আলীর সাথে রাজনৈতিক মনোদ্বন্দ্ব রয়েছে মোশারফ হোসেনের। একসময় একই বৃন্তে থাকলেও বেশ কিছুদিন যাবত দুজন দু’মেরুতে অবস্থান নেয়। এটি প্রকট আকার ধারণ করে গেল জাতীয় নির্বাচনের সময়। নৌকা প্রার্থী নাজমুল হক সাগরের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন মেয়র আহম্মেদ আলী। পক্ষান্তরে স্বতন্ত্র প্রার্থী মকবুল হোসেনের পক্ষ নেন মোশারফ হোসেন ও শফি কামাল পলাশ।
কয়েকজন ব্যবসায় জানান, পৌর মার্কেটটি নির্মিত হলে ব্যবসায়িরা সুন্দর পরিবেশে স্বাচ্ছন্দে ব্যবসা করতে পারবেন। অথচ সাপ্তাহিক হাটটি সরানো না গেলে মার্কেটটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। আবার হাটের জন্য অস্থায়ী স্থান নির্ধারণ না করা হলে ব্যবসায়িরা বিপাকে পড়বেন। তারা এখানে ব্যবসা না করতে পারলেও অন্যস্থানে জায়গা করে নিবেন। ফলে হাটটির ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইজারদারগন।
জানা গেছে, গাংনী ফুটবল মাঠের জমি গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একার নয়। ব্যাক্তি মালিকানাধিন বসত ভিটা ছাড়াও স্থানীয় তহশীল অফিসের জমি রয়েছে। কিন্তু মাঠটি নিজেদের বলে দাবী করে জনগনের স্বার্থের কথা না ভেবে অস্থায়ী হাট বসানোয় বাধা দেয়া হচ্ছে।
গাংনী পৌর মেয়র আহম্মেদ আলী জানান, ফুটবল মাঠে হাটটি বসানোর কথা ছিল। সেটি বাধা দিচ্ছেন গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যেহেতু জায়গাটি তাদের তারা পৌরসভাকে বলতে পারতো কিন্তু তা না করে সংবাদ সম্মেলন করে নোংরা রাজনৈতিক পরিচয় দিয়েছেন। তাছাড়া সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্থ করছে।
তিনি আরো জানান, হাটটি কাঁচা বাজার ও র্যাব ক্যাম্প মধ্যবর্তী রাস্তার পাশে বসবে। ইতোমধ্যে মসজিদ কমিটির লোকজনের সাথে কথা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি ওখানে সাপ্তাহিক হাট বসানো হবে ও মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।