• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
গাংনীতে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মেহেরপুর জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটিকে মাসুদ অরুণের অভিনন্দন মেহেরপুরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাবে রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয় শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীতে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল উদ্ধার

খুচরা শলাকায় সিগারেট বিক্রিতে রাজস্ব ফাঁকি ৪ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
খুচরা শলাকায় সিগারেট বিক্রিতে রাজস্ব ফাঁকি ৪ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা
খুচরা শলাকায় সিগারেট বিক্রিতে রাজস্ব ফাঁকি ৪ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা

তামাক কোম্পানি ইচ্ছামত সিগারেটের খুচরা শলাকা মূল্য নির্ধারণ করে ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। আদায়কৃত অতিরিক্ত এ অর্থের পরিমান ৬ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। সরকার এ অর্থের ওপর নির্ধারিত হারে রাজস্ব পেলে ৪ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা পেতো। যা তামাক কোম্পানি ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে। সিগারেটের খুচরা শলাকা বিক্রি নিষিদ্ধ হলে তামাক কোম্পানি জনগণের টাকা হাতিয়ে নিতে পারবে না। একই সাথে তা সিগারেট সেবন কমিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩ টায় ‘সিগারেটের খুচরা শলাকা বিক্রিতে রাজস্ব ফাঁকি ও প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারের মুল প্রবন্ধে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর ট্যোবাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) যৌথভাবে অনলাইন মিটিং প্লাটফর্ম জুমে এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

বিইআর ও বিএনটিটিপি’র গবেষণার ফল তুলে ধরে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, প্রতি শলাকা সিগারেটে ৫০ পয়সা থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। এই অতিরিক্ত টাকার ওপর কোন কর সরকার পাচ্ছে না। গবেষণায় দেখা যায় মোট সিগারেট বিক্রির প্রায় ৮০ শতাংশ খুচরা শলাকা হিসেবে বিক্রি হয়। খুচরা শলাকা থেকেই তামাক কোম্পনিগুলো প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করছে। যার করের অংশ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর সিনিয়র কনসালটেন্ট মোঃ শফিকুল ইসলাম সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটির নির্বাহী পরিচালক একেএম মাকসুদ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক বজলুর রহমান এবং একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ও তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক সুশান্ত সিনহা। ওয়েবিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিএনটিটিপি’র প্রজেক্ট ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম হিল্লোল এবং সঞ্চালনা করেন বিএনটিটিপি’র প্রজেক্ট অফিসার ইব্রাহীম খলিল।

ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, আইন অনুসারে গায়ের দামে ভোক্তার কাছে সিগারেট বিক্রির কথা থাকলেও তামাক কোম্পানির প্রতিনিধিরাই সেই দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সিগারেট সরবরাহ করছে। খুচরা বিক্রেতারা কোন দামে বিক্রি করবে তাও সিগারেট কোস্পানিই ঠিক করে দিচ্ছে। প্রতি শলাকা খুচরা সিগারেটের দামও তারাই নির্ধারণ করছে, খুচরা বিক্রেতাদের কাছে দামসম্বলিত লিফলেট সরবরাহ করছে।

তারা বলেন, তামাক কোম্পানি প্রাণঘাতি পণ্যের ব্যবসা করে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো মুনাফা করা। ফলে জনস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটিয়ে তারা সিগারেটের একক শলাকা বিক্রি এবং বিক্রি বন্ধের বিরোধিতা করে। কারণ বাজারে সিগারেটের খুচরা শলাকা বিক্রি হলে তাদের ব্যবসা ও মুনাফা ভালো হয়। কারণ খুচরা শলাকা বিক্রি হলে সহজেই তরুণদের হাতে তুলে দিতে পারে। এর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতের ভোক্তা তৈরি করে এবং জনগণের পকেট থেকে বিপূল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়।

ওয়েবিনারে বক্তারা আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশের তামাক কর ব্যবস্থাকে একটি গ্রহণযোগ্য নিয়মের মধ্যে আনতে ও রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করতে অতি দ্রুত একটি শক্তিশালী তামাক কর নীতি প্রণয়ন করত হবে।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের অর্ধশতাধিক প্রতিনিধিবৃন্দ এ ওয়েবিনার অংশগ্রহণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category