ভেঙ্গে গেল তিনদিনব্যাপী সাধুসঙ্গ ও কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়ির সাধন ভজন। সেই প্রাণের সঙ্গ ছেড়ে ভেজা চোখে আখড়াবাড়ী ছেড়ে যাচ্ছেন সাধু-বাউলরা। বুধবার দুপুরে পুন্যসেবার পরে শেষ হয় সাধুসঙ্গ। কিন্তু তিনদিনের লালন মেলা চলে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত। এদিন সন্ধ্যায় খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তবিবুর রহমান প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত থেকে তিন দিনের আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষনা করেন। তবে মনের টানে এখনো কিছু সাধু-বাউল রয়ে গেছেন আখড়াবাড়িতে, সাঁইজির সান্নিধ্যে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- লালনদর্শনে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে, তাই এবারের আয়োজনের ভিড় ছিলো অন্যবারের চেয়ে বেশি। ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৩ তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে সাধুসঙ্গ শুরু হয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। অষ্টপ্রহরের এ আয়োজনের শেষ পর্ব পুন্যসেবা হয় বুধবার বেলা ৩টায়। এরপরপরই আখড়াবাড়ি ছাড়তে শুরু করেন সাধু-বাউলরা। বিদায় বেলায় তাদের ভেজা চোখে ছিলো আবারো মিলিত হবার বাসনা।
ফকির রশিদ বাউল বলেন, এখানে যখন আশি তখন অন্য রকম ভালোলাগা কাজ করে। কিন্ত যখন চলে যাওয়ার সময় হয় তখন মনে হয় কি যেন রেখে যাচ্ছি। বুকটা খা খা করছে । লালন আনুসারীরা বলছেন দিন যতো যাচ্ছে লালনের অহিংস, মানবতাবাদী দর্শন ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বময়। আগ্রহ বাড়ছে তার গানের বাণী ও সাধু-গুরুদের জীবনাচরণ নিয়ে। এবারো আখড়াবাড়ি ঘুরছেন অসংখ্য বিদেশী।
গানে, আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে লালনের মানবতাবাদ। সামনের দিনে মানবতার সাধক লালনের আখড়ায় মানুষের আনাগোনা আরো বাড়তে পারে, তাই জায়গা বড় করার দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানতে চাইলে ফকির আব্দুর রাজ্জাক বাউল, আমরা তিন দিন এখানে ছিলাম, এখানে যেমন অনেক গুরুর সেবা করতে পেরেছি, তেমনি পেয়েছি শির্শ্যদের ভালোবাসা। সবচেয়ে বড় কথা আমরা নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পেরেছি। কিন্ত যাওয়া সময় চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। কারন এখানে আমাদের মনের মানুষ, আমাদের সাইজী ঘুমিয়ে আছেন।
আর কি হবে মানব জনম বসবো সাধুর মেলে। সেই আসায় সাধুগুরুরা তাদের আসন ছেড়ে নিজ গন্তব্যের উদ্দ্যেশে গেলেও আত্মার খোরাক মেটাতে সাঁইজির ধামে আজো রয়েছে অনেক বাউল এবং দর্শনার্থী।