• শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মেহেরপুর জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটিকে মাসুদ অরুণের অভিনন্দন মেহেরপুরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাবে রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয় শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীতে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল উদ্ধার গাংনীতে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের নিচে ব্যাগ দেখে বোমা আতঙ্ক: ব্যাগে মিলল গমের ময়দা

গাংনীতে বেড়েছে ভয়ংকর বিষধর কালাচ সাপের উপদ্রব

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
গাংনীতে বেড়েছে ভয়ংকর বিষধর কালাচ সাপের উপদ্রব
গাংনীতে বেড়েছে ভয়ংকর বিষধর কালাচ সাপের উপদ্রব

মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামে বেড়েছে ভয়ংকর বিষধর কালাচ সাপের উপদ্রব। ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে প্রাণ হারাচ্ছে অনেকেই তাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে আনন্দবাস গ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় কালাচ সাপের ছোবলে মারা গেছে ৫ বছর বয়সী তানভির নামের এক শিশু। গেল দুই মাসে বিভিন্ন গ্রামের কালাচ সাপের দংর্শনের শিকার হয়েছেন অনেকে। প্রায়ই মারা পড়ছে কালাচ সাপের বাচ্চা ও পুর্ন বয়স্ক সাপ।

স্থানীয় প্রবীন ব্যাক্তি আব্দুর রহিম জানান, আনন্দবাস গ্রামের কৃষক রাশেদুল ইসলামের শিশুপুত্র তানভির পরিবারের লোকজনের সঙ্গে বারাদ্দায় খাটের উপরে ঘুমিয়ে ছিল। ভোর রাতে তাকে কালাচ সাপে ছোবল দেয়। পরিবারের লোকজন সাপটি মারার চেষ্টা করে। কিন্তু শিশু তানভিরের শারীরকি অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসে পরিবারের সদস্যরা। আহত সাপটি লুকিয়ে পড়ায় তা আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিশু তানভিরকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা হাসপতালে পৌছুনোর আগেই মারা যায়। পরিবারের লোকজন সাপের রং ও আকার দেখে কালাচ সাপ বলে নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে কালাচ সাপ আতংক বিরাজ করছে।

একই এলাকার বকুল হোসেন বলেন, সাপটি এলাকায় কমনক্রেট বা কালাচ অথবা শিয়াড়চাঁদা সাপ বিষধর ও ভয়ংকর সাপ হিসেবে পরিচিত। গেল দুই মাস ধরে বিভিন্ন গ্রামে কালাচ সাপের অস্বাভাবিক উপস্থিতিতে দিশেহারা পড়ে পড়েছে মানুষ। মাঠের ক্ষেতে এবং বাড়ির আশপাশের ঝোড়ঝাড়ে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন অনেকেই। কালাচ সাপ মূলত রাতের আধারে ইঁদুর বা পেকামাকড় তাড়া করে মানুষের ঘরে ঢুকে পড়ে। সাপের উপরে আঘাত পড়লে মানুষকে ছোবল দেয়। বিভিন্ন গ্রামে বসতবাড়িতে রাতের আধারে ঢুকে পড়ছে কালাচ সাপ। সম্প্রতি কয়েকটি গ্রামে কালাচ সাপ মারার ঘটনায় এলাকায় মানুষ ভীতির মধ্যে পড়েছেন। কালাচের ছোবলে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেকেন্দার আলী বলেন, বর্ষাকালে এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে তাই এই সাপ থেকে বাঁচতে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরগুলোর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ একরামুল হক সময়ের আলো’কে জানান, রাতের আঘারে ঘুমন্ত মানুষকে ছোবল দেয় কালাচ। তাই সাপের কামড় সন্দেহ হলে দ্রুত হাসাপাতালে রোগী আনতে হবে। একইসাথে রাতে ও দিনে সাবধানে চলাচল এবং বাড়ির পাশের ঝোড়ঝাড় পরিস্কার করার পরমর্শ দিলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য: গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে, গত ৮ মাসে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের কামড়ের শিকার ৭৭ জন চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে কালাচের দংশনের শিকার ছিলেন বেশ কয়েকজন। হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছে অন্তত ৬ জন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category