• শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মেহেরপুর জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটিকে মাসুদ অরুণের অভিনন্দন মেহেরপুরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাবে রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয় শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীতে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল উদ্ধার গাংনীতে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের নিচে ব্যাগ দেখে বোমা আতঙ্ক: ব্যাগে মিলল গমের ময়দা গাংনীতে সার বহনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে চালকের জরিমানা মুজিবনগরে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট শামীম গ্রেফতার নড়াইলে ৯ কার্যদিবসে ৫ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ঘাতকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

গাংনীতে সিলিং ফ্যান বিতরণের টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
গাংনীতে সিলিং ফ্যান বিতরণের টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে
গাংনীতে সিলিং ফ্যান বিতরণের টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নে সরকারের উন্নয়ন তহবিলের আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিলিং ফ্যান সরবরাহের নামে ২ লাখ ১১ হাজার টাকার ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হকসেদ আলীর বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের উন্নয়ন তহবিল থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে মোট ৫৫টি সিলিং ফ্যান সরবরাহের জন্য ২ লাখ ১১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে একটি ফ্যানও সরবরাহ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার প্রস্তুত করে পুরো বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

সরেজমিনে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে ফ্যান না পাওয়ার তথ্য মিলেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন তহবিলের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না হলে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি হকসেদ আলী বলেন, ফ্যান বিতরণ হয়নি, এ তথ্য সঠিক নয়। বরাদ্দ অনুযায়ী সব ফ্যান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, প্রকল্পের বিল উত্তোলন হয়েছে এবং ফ্যানও বিতরণ করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এখন পর্যন্ত ফ্যান বিতরণের মাস্টাররোল বা গ্রহণ তালিকা পিআইসি জমা দেয়নি। জুন মাসে অর্থবছরের সমাপনী (ক্লোজিং) শেষ হলেও কেন মাস্টাররোল ছাড়া বিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে, এ প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি

অন্যদিকে তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রকিব উদ্দিন ভিন্ন তথ্য দিয়ে বলেন, “আমার জানা মতে একটি ফ্যানও বিতরণ করা হয়নি। বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category