আজ আমরা এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস- জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান—স্মরণ করতে একত্রিত হয়েছি। এই অভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে একটি মাইলফলক। এটি ছিল ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সাহস, ঐক্য এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যা ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদদের, যাঁদের ত্যাগ আমাদের সংগ্রামকে এক নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। তাঁদের আত্মবলিদান আমাদের গণতান্ত্রিক চেতনাকে পুনর্জাগরণ করেছে এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে। তাঁদের স্মৃতি আমাদের প্রেরণার উৎস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য ধন।
শহীদদের পরিচয় ও আত্মত্যাগের কাহিনী শুধু ইতিহাস নয়—এটি সংগ্রামের ভাষা, এটি অধিকার আদায়ের শিক্ষা। এই বিপ্লব চিরন্তন একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হিসেবে বহমান থাকবে।
আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের পটিয়া থানা পুলিশ কর্তৃক জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছাত্রদের উপর দমনমূলক হামলা চালানো হয়েছে। এটি শুধু ইতিহাসের অবমাননা নয়, বর্তমানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর সরাসরি আঘাত।
আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিতে চাই-এই দমননীতি চলতে পারে না। যারা ইতিহাসবিরোধী ও জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, তাদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দেরি হলে ছাত্র-জনতার ধৈর্যচ্যুতি ঘটবে—এবং তার ফল কারো জন্যই শুভ হবে না।
আসুন, আমরা শহীদদের স্মরণ করে তাদের আদর্শ ও সাহসিকতাকে ধারণ করি এবং শোষণ, বৈষম্য ও দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রামকে আরও ঐক্যবদ্ধ করি।
আমির হামজা,
সদস্য, এনসিপি, মেহেরপুর জেলা কমিটি।