• শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
গাংনীতে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় শীর্ষ সন্ত্রাসী গাংনীর পিচ্চি হোসেন গ্রেফতার- দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার গাংনীতে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে গাংনী সীমান্তে মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মেহেরপুর জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটিকে মাসুদ অরুণের অভিনন্দন মেহেরপুরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাবে রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয় শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীতে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল উদ্ধার

নিম গাছের গোড়ায় দুধ ঢেলে কিসের মানত!

বিবর্তন প্রতিবেদক
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪
নিম গাছের গোড়ায় দুধ ঢেলে কিসের মানত!
নিম গাছের গোড়ায় দুধ ঢেলে কিসের মানত!

রোগমুক্তি আর মনোবাসনা পুর্ণ হওয়ার আশায় কেউ ঢালছেন গাভীর দুধ, জ্বালাচ্ছেন আগরবাতি, দিচ্ছেন খিচুড়ি, পিঠা-পুলি ও আতপ চাল। এরকম দৃশ্য দেখা যায় আশুরার দিনে আয়োজিত মেলার মাঠের পাশের দেড়শ’ বছরের পুরানো নিম গাছের গোড়ায়। এ গাছের গোড়ায় মানত করলে নাকি  রোগমুক্তি হয়। এমন কথা শুনেই দুর দূরান্ত থেকে নারী-পুরুষ ছেলে বুড়ো সকলেই ছুটে আসে মানত করতে। কেউ আসে আগের বছরের মানত দেয়ার জন্য। প্রতিবছর ১০ মহরমের দিনে মেলার আয়োজন করা হয় মেহেরপুর জেলার সিমান্তবর্তী গ্রাম কুতুবপুর গ্রামে। তবে কারো মনোবাসনা পুর্ণ বা কোন রোগমুক্তি হয়েছে কি-না সে ব্যাপারে ক নিশ্চিত করে বলতে পারেনি কেউ। এই গাছের নিচের ঘটনার কোন দালিলিক ভিত্তি আছে কিনা আয়োজকরা সেটাও জানাতে পারেনি।

জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দুরে কুতুবপুর গ্রামের ভৈরব নদীর পাড়ে রয়েছে একটি শতবর্ষী নিম গাছ। জনশ্রুতি রয়েছে এ গাছের গোড়ায় মানত বা শিরনী দিলে নাকি মুক্তি মেলে। এ বিশ্বাসে দূর দূরান্ত থেকে অনেকেই আসছেন মানত দিতে। গাংনী উপজেলার কাথুলী গ্রাম থেকে ছোট বাচ্চা সামিকে নিয়ে গৃহবধু হাচেনা এসেছিলেন মানত করতে। কিন্তু কি রোগ বা মনোবাসনা পুর্ণ করার জন্য এসেছেন তা বলতে নারাজ। তিনি বাড়ির গাভির দুধ আগর বাতি আর কিছু টাকা এনেছেন। নিজ হাতে দুধ ঢাললেন গাছের গোড়ায়। জ্বালালেন আগর বাতি। করজোড়ে মিনতিও জানালেন। আর টাকাগুলো দিলেন গাছের গোড়ায় বসে থাকা দুজনের কাছে জমা দিলেন।

সদর উপজেলার শ্যামপুরের রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ছোট বেলা থেকেই এখানে আসেন। তার নিজেরও অসুখ ছিল। তার বাবা মা এখানে মানত করে তা পরিশোধ করায় সে অসুখ সেরে গেছে। তাই কৃজ্ঞতা জানাতে মহররম মাসের এই দিনে তিনি আসেন। সহগলপুর গ্রামের গৃহবধু মরিয়ম এসেছিলেন তার মেয়ের সন্তান হয় না তাই গাছের কাছে মানত করলেন। কি মানত করলেন তা তিনি জানান নি।

গাছের গোড়ায় বসে থাকা তাহাজুল ও কারিজুল জানান, প্রতিবছর এই দিনে সকাল থেকে বসে গাছের গোড়া পাহারা দেন তারা। রোগমুক্তির আশায় অনেকে দুধ ঢালেন, চাল ডাল খিচুড়ি, চিনি আর টাকা দেন অনেকেই। খিচুড়ি মানুষজনকে দেওয়া হয়। জমা হওয়া টাকা কি করেন ? এমন প্রশ্নের জবাব তারা নিরবতা পালন করেন। তবে সারা দিনের পারিশ্রমিক হিসেবে উপস্থিত কয়েকজন ভাগাভাগি করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, নিম গাছের বয়স অন্ততঃ একশত বছর। মহররমের এ দিনে মানুষজন এখানে এসে রোগমুক্তির আশায় মানত করে। অনেকেই বলে রোগমুক্তি হয়েছে। আবার অনেকেই আশায় থাকেন রোগমুক্তির কিন্তু কেউ স্বীকার করেনি। তারপরও এখানে লোকজন ভীড় করে মানত দিতে। তবে গুটি কতক লোক এই গাছকে পুঁজি করে ব্যবসা করছেন বলেও মতামত ব্যক্ত করেন তারা।

বেশ কয়েকজন আলেম জানান, গাছের নিচেই নয়, মানত করা নাজায়েজ। গাছের কোন ক্ষমতা নেই রোগমুক্তি করার। সর্বময় ক্ষমতা আল্লাহর। কেউ যদি আল্লাহর কাছে মুক্তি চায় তাহলে আল্লাহ মুক্তি দিবেন ইনশা আল্লাহ। রোগ হলে ডাক্তার আছে। সেখানে চিকিৎসা না নিয়ে গাছের তলায় মানত দেওয়া বেদাত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category