ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে পশুক্রয়ের নাম করে অর্ধশত কৃষকের পালিত গরু নিয়ে নিরুদ্দেশ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। পশু বিক্রির টাকা আদায়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ভুক্তভোগীরা। এরই মধ্যে থানায় ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান হরিশপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম মণ্ডলের ছেলে। তিনি জোড়াদহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
পশু বিক্রেতা কৃষকরা বলছেন, ধারদেনা করে অনেক কষ্টে গরুগুলো পালন করেছেন তারা। বছর শেষে পশু বিক্রি করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে বুক বেঁধে ছিলেন। উপরন্ত গরুর খাবার কিনতে ধারদেনার দায় মেটাতে তারা সহায়-সম্বল বিক্রি করে ঋণমুক্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে থানায় দুটি এবং চেয়ারম্যানের নিকট পাঁচটি অভিযোগ দায়েরের খবর পাওয়া গেছে।
এলাকবসী সূত্রে জানা গেছে, দুই মাস আগে থেকে হরিশপুর, গোবিন্দপুর, ভবিতপুর, কুলবাড়িয়াসহ হরিণাকুণ্ডু ও আশপাশের উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অর্ধশত কৃষকের গরু ক্রয়ের নামে নিয়ে যায় মিজানুর রহমান। তবে ১৫ দিন ধরে তিনি লাপাত্তা। ভুক্তভোগী কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেনার নাম করে দাম করে বাকিতে গরুগুলো নিয়েছেন তিনি। এক সপ্তাহ পর টাকা পরিশোধের কথা বললেও ক্রেতা মিজানুর রহমানের আর খোঁজ পাচ্ছে না কৃষকরা।
নির্বাচনের আগে একটি ষাঁড় দেড় লাখ টাকা দাম করে মিজানুর নিয়ে গেছেন বলে জানান হরিশপুর গ্রামের তারিফ মুন্সী। তার বক্তব্য, এক সপ্তাহ পর টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি বাড়িতেও নেই, ফোনও বন্ধ। ধারদেনা করে বিচালি, খড় ও ভুষি কিনেছেন। টাকার জন্য মহাজনরা চাপ দিচ্ছেন।
একই গ্রামের খালপাড়ার কামরুল ইসলাম নামে এক কৃষকের দাবি, দুমাস আগে ইউপি সদস্য মিজানুর তার একজোড়া মহিষ ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা দাম ধরিয়ে নিয়ে যান। মাত্র ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এক সপ্তাহ পর বাকি তিন লাখ টাকা দেবেন জানালেও পরে আর পরিশোধ করেনি। প্রথমে আজ দিই, কাল দিই বলে ঘুরিয়েছেন। এখন তিনি লাপাত্তা।
সিদ্দিক নামে আরেক জনের গরু এক লাখ টাকা দাম নির্ধারণ করে নিয়ে যান মিজানুর। তিনিও টাকা পাননি। এলাকাবাসির ভাষ্য, মিজানুর দীর্ঘদিন গরু কেনাবেচা করেন। এলাকার গরু বাকিতে কিনে বিভিন্ন বড়বড় পশু হাটে সেগুলি বিক্রি করে আসছিল। প্রায় অর্ধশত কৃষকের গরু নিয়ে কিছুদিন ধরে তিনি নিরুদ্দেশ । গরুগুলোর বাজারমূল্য কোটি টাকার ওপরে বলে দাবি ভূক্তভূগী কৃষকদের।
মিজানুরের প্রতিবেশী এনামুল ইসলাম বলেন, তিনি কোথায় আছেন, কেউ জানে না। পরিবারের লোকজনও খবর বলতে পারছেন না। তার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগও আছে। কুলবাড়িয়া গ্রামের রাজু আহম্মেদ বলছিলেন, তার দুটি ষাঁড় দুই লাখ টাকা দাম নির্ধারণ করে নিয়ে গেছে এই গরু ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান।
এ বিষয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার ইউপি সদস্য মিজানুরের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তার স্ত্রী সাবানা খাতুন বলেন, পনের দিন আগে আমার সঙ্গে ঝগড়া করে সে বাড়ি থেকে চলে গেছেন। এখন কোথায় আছেন, তা জানি না।’
কয়েকজন ভুক্তভোগী পরিষদে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জোড়াদহ ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবু মিয়া বলেন, তিনি শুনেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য অনেকের গরু-মহিষ কেনার নাম করে নিয়ে গেছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ। বাড়িতে লোক পাঠিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান।