• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
একদিকে ত্যাগী বিএনপি, অন্যদিকে দুই দিনের বিএনপি: সাবেক এমপি মাসুদ অরুণ নির্বাচন অফিসারের খেয়াল খুশিতে গাংনীর নতুন ভোটারদের ভোগান্তি সার্ভিস বুক দোকানে না মঙ্গলগ্রহে যাবে শিক্ষকদের বিষয়-উপজেলা শিক্ষা অফিসার গাংনীতে মোটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু মেহেরপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এক্সপ্রেসওয়েতে দর্শনা ডিলাক্স দুর্ঘটনায় নিহত ৩ জনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায় গাংনীতে ৭ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক মেয়াদোত্তীর্ণ দরপত্রে চলছে কাজলা নদীর মাটি বিক্রি মেহেরপুর হাসপাতালে পচা ডিম ও নিম্নমানের খাবার, ধরলেন বিএনপি নেতারা মেহেরপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সার্ভিস বুক দোকানে না মঙ্গলগ্রহে যাবে শিক্ষকদের বিষয়-উপজেলা শিক্ষা অফিসার

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
সার্ভিস বুক দোকানে না মঙ্গলগ্রহে যাবে শিক্ষকদের বিষয়-উপজেলা শিক্ষা অফিসার
সার্ভিস বুক দোকানে না মঙ্গলগ্রহে যাবে শিক্ষকদের বিষয়-উপজেলা শিক্ষা অফিসার

নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই অফিসের বাহিরে চায়ের দোকানে বসেও হালনাগাদ লিপিবদ্ধ হচ্ছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সার্ভিস বই। বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস অর্থাৎ BSR এর পার্ট-১ এর পরিশিষ্ট-৮ অনুসারে নন-গেজেটেড কর্মচারীদের সার্ভিস বই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিস প্রধান সংরক্ষণ করবেন। এবং হালনাগাদ করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিসে বা কর্মরত প্রতিষ্ঠান প্রধানের কক্ষে বসে লিপিবদ্ধ করা হয়।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে দেখা গেছে অধিকাংশ শিক্ষকের অনুপস্থিতিতেই চায়ের দোকান ও বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে বসে সার্ভিস বই লিপিবদ্ধ করছেন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ। প্রধান শিক্ষকদের কাছে বই দিয়েছি তারা চায়ের দোকানে করবে না মঙ্গল গ্রহে বসে করবে সেটা তাদের বিষয় বললেন গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিসার।

সার্ভিস বুক দোকানে না মঙ্গলগ্রহে যাবে শিক্ষকদের বিষয়-উপজেলা শিক্ষা অফিসার

সার্ভিস বুক দোকানে না মঙ্গলগ্রহে যাবে শিক্ষকদের বিষয়-উপজেলা শিক্ষা অফিসার

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানাগেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সার্ভিস বুক হলো এমন একটি সরকারি বা দাপ্তরিক নথিপত্র বা খতিয়ান বই, যেখানে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত (যোগদান থেকে অবসর পর্যন্ত) সমস্ত পেশাগত তথ্য, পরিবর্তন এবং ইতিহাস আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। চাকরিতে যোগদানের তারিখ, পদবি, স্কেল ও প্রথম নিয়োগের আদেশ নম্বর। জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন (Pay Fixation), টাইমস্কেল, পদোন্নতি ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তথ্য। এক বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ এবং যোগদানের তারিখ। অর্জিত ছুটি, চিকিৎসা ছুটিসহ বিভিন্ন ধরনের ছুটির হিসাব। পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ, পুরস্কার বা কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা/শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিবরণ। এ ক্ষেত্রে সার্ভিস বুকে কোনো ধরনের ঘষামাজা বা অস্পষ্টতা গ্রহণযোগ্য নয়। যা একান্তই উক্ত শিক্ষকের ব্যাক্তিগত বিষয় তাই অফিস প্রধান ছাড়া অন্য কারো দেখার বা জানার সুযোগ নেই। এভাবে বাহিরে উন্মুক্ত স্থানে সবার সামনে এই বই উপস্থাপন হওয়াতে কর্মস্থল বা সহকর্মীদের মাঝে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূল সার্ভিস বুক সাধারণত নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অফিসে সংরক্ষিত থাকে এবং শিক্ষক বদলি হলে তা নতুন কর্মস্থলে পাঠানো হয়। সার্ভিস বুকটি সাধারণত উপজেলা শিক্ষা অফিস বা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হেফাজতে নিরাপদ রাখতে হয়। শিক্ষক নিজে বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এটি দেখতে পারেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সার্ভিস বুক হালনাগাদ করার মূল দায়িত্ব প্রধান শিক্ষক এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত থাকে। কিন্তু কোন প্রকার নিয়মের তোয়াক্কা না করেই উপজেলা শিক্ষা অফিসার সার্ভিস বই বাহিরে দিয়ে দিলেন।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষক সমিতির একাংশের সভাপতি আকতারুজ্জামান বকুল বলেন, শিক্ষকদের সবাইকে উপস্থিত করা সম্ভব না তাই আমরা বইগুলো দেখে আজকে জমা দিবো সেই লক্ষেই এখানে আসা। সার্ভিস বই এভাবে জনসম্মুখে দেওয়া ঠিক হয়েছে কিনা এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি গোলাম ফারুক বলেন, এটা গোপনীয় সংরক্ষণ সরকারী নথি, এই রেকর্ডে তার চাকরী জীবনের ভালো খারাপ সমস্ত তথ্য থাকে। এটা অফিসের মধ্যেই সংরক্ষিত থাকবে। ইতোমধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে তিনটি বই হারিয়েছে যা এখনো পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: আবদুর রশীদ জানান, যার যার সার্ভিস বুক তাকে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে মানে হেড মাস্টারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে আপ টু ডেট করে জমা দিবে। হেড মাস্টার তার দ্বায়িত্বে আছে। এক হাজার লোক ডেকেতো সার্ভিস বুক দেওয়া যাবে না। উন্মুক্ত স্থানে সার্ভিস বু্ক দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যার যার বই সে চায়ের দোকানে করবে না মঙ্গলগ্রহ থেকে করবে সেটা তার বিষয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুকুমার মিত্র জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসে যান, এটাতো জেলায় বসেতো এতো মনিটরিং করা যায় না। এইটা আপনি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলেন, এটাতো উনার জুরিডিকশন, উনার সাথে কথা বললেই উনিই উনার উপজেলার বিষয়ে উনিই যা করবেন উনিই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category