মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিলে ভূমি ব্যবহার নীতিমালা লংঘন করে পুকুর সংস্কারের নামে নির্বিঘ্নে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী পুকুর মালিক ও স্কেভেটর ঠিকাদার। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পুকুরের পাশের কয়েকটি পরিবার পড়েছে বিপাকে। ইতোমধ্যেই তাদের জমির সীমানায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পুকুর পাড়ের কয়েকটি পরিবার ভাঙ্গনের কবলে পড়ার আশংকা করছে স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাঁদবিল গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় স্থানীয় রিয়াদ আলী নামের এক ব্যক্তির সাত বিঘার একটি পুকুর সংস্কার কাজ চলছে। এই পুকুর সংস্কারের নামে অপরিকল্পিতভাবে এস্কেভেটর দিয়ে পুকুরের তলদেশ থেকে ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ গাড়ি বালু উত্তোলন করে প্রতি গাড়ি ১৫’শ থেকে ১৬’শ টাকায় শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বালু।
প্রকাশ্যে দিন রাত পুকুর থেকে বালু উত্তোলনের পর তা পরিবহনের জন্য পাকা ও কাঁচা সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। বালু বোঝায় ভারী যানবাহন চলাচল করায় রাস্তা গুলো ভেঙ্গে গিয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কগুলো নষ্ট আর ধুলোবালিতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ। স্থানীয়দের বাঁধার পরও চলছে বালু উত্তোলন ও বিক্রির মহোৎসব। ওই সব বালু যাচ্ছে বাড়ী নির্মাণ কাজে, জমি ভরাট এবং রাস্তা ও স্থাপনা তৈরীতে।
প্রশাসনের নাকের ডগায় বালু উত্তোলন ও বালু বহনকারী ট্রাক্টরগুলো মহাসড়ক ও শহরের প্রধান সড়কে দাপিয়ে বেড়ালেও প্রশাসন যেন কিছুই দেখছে না। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়ায় এসব যন্ত্রদানব ট্রাক্টরগুলো।
পুকুর পাড়ের বাসিন্দা হালিমের পরিবারের লোকজন জানান, মাটি দিয়ে পাড় বেঁধে দেবে বলে এখনও আমরা অভিযোগ করিনি। তবে যতটুকু মাটি পাড়ে দিয়েছে তাতে কিছুই হবে না। এর আগেও পুকুর খনন করার সময় পাড় ভেঙ্গে গেলে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানিয়েছিলাম। তিনি লিখিত দিতে বলেছিলেন। পরে বিষয়টি রিয়াদকে জানালে সে মাটি ভরাট করে দেবে বলেছিলো। এবারও তারা প্রথমে মাটি ও পরে বালু তুলছে। সমস্ত মাটি ও বালু বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে যে অবস্থা তাতে একসময় ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আমার সীমানায় চলে আসবে। তারা ঠিকমত পাড় বাঁধছেনা।
চাঁদবিল পশ্চিমপাড়ার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে মাটি কেটে পুকুর সংস্কার করার কথা থাকলেও পরে পুকুরে বালু পাওয়ায় তাদের কর্মযজ্ঞ থামছেনা। বর্তমানে যে অবস্থা পুকুর পাড়ের কয়েকটি পরিবার ভবিষ্যতে ভাঙ্গনের কবলে পড়বে। এছাড়াও সারাদিন এই ট্রাক্টর চলাচলের কারণে শব্দ দূষণ ও ধুলোবালিতে অতিষ্ট স্থানীয়রা। পুকুর মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। শব্দ দূষণ ও ধুলোবালিতে অতিষ্ট হয়ে স্থানীয়রা রাস্তায় বাঁশ ফেলে ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ করলেও কোন প্রতিকার মেলেনি।
ট্রাক্টরের টিপের হিসেবকারী পটল বলেন, চেয়ারম্যানের চাচার পুকুর এটা। চেয়ারম্যানকে জানিয়েই কাজ করা হচ্ছে, উনি সব জানেন।
স্কেভেটর মালিক মিজা রহমান বলেন, ১৭ বছর ধরে এই কাজ করছি। মেহেরপুরে আমার গাড়ি আটকানোর কেউ নেই। সবাইকে ম্যানেজ করেই আমরা এসব চালাচ্ছি। বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে পুকুর মালিক রিয়াদ বলেন, আমি আমার প্রকুর সংষ্কার করছি। বালু তুলছিনা যা এদিক ওদিক ছিলো সেগুলো সমান করে দিয়েছি। আমার পুকুরে ময়লা ও পানি ফেলতে নিষেধ করেছি তাই তারা আমার নামে এমন কথা বলছে।
মেহেরপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল বাকী জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। আমি ছুটিতে আছি। অফিসে গিয়েই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবো।