নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্য সৃষ্টিতে সমাজে অবদান রাখতে হবে। বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে আহবান জানিয়েছেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন। মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনা সভায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শহরের কলেজ মোড়ে শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোস্তাক আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম বকুল।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর শেখ বখতিয়ার উদ্দীন বলেন, আজকের দিনটি আমাদের সবার জন্য অত্যান্ত আনন্দের ও গৌরবের দিন। তিনি মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে নিহতে ও আহতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন তাদের আত্মত্যাগ ও জীবনের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। স্বাধীনতার সুফল আমরা এখন ও পাইনি। সে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কে কেন্দ্র করে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই বৈষম্য ও এবং সত্যিকারের স্বাধীনতা আমরা এখন ও অর্জন করতে পারিনি। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন সেই দিকের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার আহবান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও আমরা স্বাধীনতার সত্যিকারের ইতিহাস এখন ও পাইনি। বিভিন্ন সময় যার যার সুবিধামত স্বাধীনতার ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছে। রাজনৈতিক হানাহানি, সামজিক অস্থিরতা ও দুর্নীতি এবং একশ্রেণির মানুষের সম্পদ কুক্ষিগত করার কারণে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি আরো বলেন পৃথিবীর অনেক দেশ স্বল্প সময়ে অনেক উন্নত হয়েছে অথবা আমরা এখন ও পিছিয়ে আছি। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য দুর করতে হবে। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সকলকে দেশ গঠনে কাজ করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল ভুমিকার কথাও উল্লেখ করেন। আলোচনা সভা শেষে বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।