মেহেরপুর সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এক পরনারীর ফাঁদে পড়ে বড় ভাই কুদ্দুসের সমস্ত জমিজমা ওই নারী ও তার সন্তানেরা ভোগ ও জবরদখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে ছোট ভাই সেলিম বাধা হয়ে দাঁড়ালে তার নামে আদালতে একাধিক মামলাও করেছেন বড় ভাই কুদ্দুস।
এই ঘটনার সত্যতা যাচায়ে সরজমিনে গেলে দেখা যাই আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কুদ্দুস রাতের আধারে ১১ কাঠা জমি তারকাটা দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। তবে জমিটি নিজের নামে বলে দাবী করেছেন কুদ্দুস। ওই জমির সামনের অংশে সরকারি জমিতে আরজিনা খাতুন নামের এক অসহায় নারী বসবাস করছেন প্রায় এক যুগ ধরে। সেই জায়গাটি সরকারি হলেও কুদ্দুস সেটি নিজের দাবী করে আদালতে মামলা এবং ওই নারীকে প্রতিনিয়ত মৃত্যু ও দোকান, ঘর ভাংচুরের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবী করেন ভুক্তভূগী আরজিনা খাতুন।
জানা গেছে, কুদ্দুস দীর্ঘদিন যাবত মালয়েশিয়ায় ছিলেন, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে থেকেই এলাকার মনোয়ারা নামের এক নারীর বাড়িতে তার অবাধে আসা যাওয়া করে। এই নারীর কারণে কুদ্দুসের তিনটি স্ত্রী সংসার করতে পারেনি। এনিয়ে গ্রামে শালিস ও গ্রামের একধিক ব্যক্তি তাদের সম্পর্ককে অবৈধ বলে গণস্বাক্ষর করলেও কুদ্দুসকে থামানো যায়নি। মনোয়ারার স্বামী সন্তান থাকার পরও কুদ্দুসের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি নিজ এলাকা থেকে শুরু করে আশেপাশের এলাকার অনেকই অবগত আছে। মনোয়রা একই গ্রামের মুছা কলিমের স্ত্রী।
এই ঘটনায় কুদ্দুস এর ছোট ভাই সেলিম বলেন, আমার বড় ভাই দির্ঘদিন বিদেশে ছিলেন, তার নিজের কোন সন্তান নেই তবুও স্থানীয় মনোয়ারা নামের এক নারীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তার সমস্থ অর্থ ও সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলেছে। মনোয়ারার একটি ছেলেকে নিজের ছেলে দাবি করে আমার বাবার দিয়ে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি মনোয়ারার ছেলেকে লিখে দিয়েছেন। তাদের সাথে আমাদের রক্তের কোন সম্পর্ক নেই, তারা আমাদের কোন শরিক ও নয়, শুধুমাত্র মনোয়ারা আমার ভায়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করে তাকে ফুসলিয়ে তার সম্পত্তিগুলো লিখে নিচ্ছেন। যদিও তাদের সম্পর্কের বৈধতার কোন প্রমান নেই।
তিনি আরও বলেন, আমার যেখানে জমি আছে সেখানেই তারা দখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত হুমকির মধ্যে বাস করছি। তাদের একটাই তার্গেট আমার জমি দখলে নেওয়া। এর আগে তারা আমার পাট ক্ষেত নষ্ট, বাড়ির জমি ও অন্যান্য জমিজায়গা কথিত সন্তানদের নিয়ে বিভিন্নভাবে দখল পায়তারা করে আসছে।
এদিকে অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন বড় ভাই কুদ্দুস বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিদেশে থেকেছি। কর্মজীবন শেষ করে বাড়িতে ফিরে আমার দুই চোখে সমস্যা হয়েছিলো। এমন সময় আছে আমি চোখে দেখতেও পাইনি। আর আমার সেই অসময়ে আমার পাশে থেকে আমাকে সহযোগিতা করেছেন মানোয়ারার ছেলে শান্ত। যে কারনে আমি তাকে আমার ছেলে হিসেবে নিয়েছি। আর তাই আমার সম্পদ আমি তাকে লিখে দিয়েছি, প্রয়োজনে আরও দেবো। যদিও শান্তকে ছেলে হিসেবে দত্তক নেয়ার বৈধ কোন কাগজ দেখাতে পারেননি কুদ্দুস। তিনি বলেন শুধুমাত্র মৌখিকভাবে তাকে আমি ছেলে হিসেবে তাকে নিয়েছি।